ডব্লিউএসআইএস ২০২৬-এ এআই নিরাপত্তায় পাঁচ দফা কাঠামো প্রস্তাব

ডিজিটাল নিরাপত্তায় ‘সেইফ সিস্টেম’ মডেলের আহ্বান

  • এআই যুগে নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবস্থার আহ্বান
  • ‘ডিজিটাল সেইফ সিস্টেম’ নামে পাঁচ স্তম্ভের প্রস্তাব
  • নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সমাজ গঠনের ওপর জোর

ডিজিটাল নিরাপত্তায় ‘সেইফ সিস্টেম’ মডেলের আহ্বান
১০ জুলাই, ২০২৬ ০০:৫৮  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে মানুষের ভুলকে বিবেচনায় রেখে নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত World Summit on the Information Society (WSIS) Forum 2026-এর Leaders TalkX 9 অধিবেশনে তিনি ‘Cyber Confidence: A Digital Safe System Approach’ শীর্ষক বক্তব্যে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বক্তৃতায় তিনি বলেন, ডিজিটাল সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হলো বিশ্বাস (Trust)। তবে বর্তমান সময়ে এআই-নির্মিত কণ্ঠ, ভুয়া ছবি, ডিপফেক এবং ক্রমবর্ধমান সাইবার হুমকি ডিজিটাল নিরাপত্তাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তাই শুধু ব্যবহারকারীর সচেতনতার ওপর নির্ভর না করে নিরাপত্তাকে প্রযুক্তি ও নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নকশায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি ‘Digital Safe System Approach’ নামে একটি নীতিগত কাঠামো উপস্থাপন করেন, যা পাঁচটি পরস্পর-সম্পর্কিত স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রথম স্তম্ভ ‘Safer Digital People’-এ আজীবন সাইবার সচেতনতা, তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা এবং মাতৃভাষাভিত্তিক ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

দ্বিতীয় স্তম্ভ ‘Safer Digital Infrastructure’-এ নিরাপদ, সহনশীল এবং অধিকারসম্মত ডিজিটাল অবকাঠামো, পরিচয় ও ডেটা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তৃতীয় স্তম্ভ ‘Safer Digital Technologies’-এ এআই, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ডিভাইস এবং আর্থিক সেবায় নিরাপত্তাকে ডিফল্ট বৈশিষ্ট্য হিসেবে সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে অস্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

চতুর্থ স্তম্ভ ‘Safer Digital Speed’-এ এআই যুগে ক্ষতিকর কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার রোধে Intelligent Friction বা বুদ্ধিবৃত্তিক নিয়ন্ত্রণের ধারণা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে সন্দেহজনক লেনদেন সাময়িক স্থগিত রাখা, ভাইরাল ডিপফেক কনটেন্টের বিস্তার ধীর করা এবং উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এআই কার্যক্রমে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পঞ্চম স্তম্ভ ‘Post-Incident Care’-এ দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ, কার্যকর প্রতিকার, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সহায়তা এবং ডিজিটাল পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বজলুর রহমান বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি ভুল করেন, প্রযুক্তিকে সেই ভুল শনাক্তে সহায়তা করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। আর ক্ষতি হলে ভুক্তভোগীকে একা ফেলে রাখা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, Technology-Facilitated Gender-Based Violence (TFGBV) উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত, আইনি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তৃতার সমাপনীতে বজলুর রহমান বলেন, WSIS 2035-এর পথে অগ্রসর হওয়ার সময় শুধু কত মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তা নয়, বরং কত মানুষ নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ডিজিটাল সমাজে অংশ নিতে পারছেন—সেই বিষয়টিকেও সাফল্যের সূচক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তাঁর ভাষায়, “মানুষ ভুল করবেই; কিন্তু দায়িত্বশীল ডিজিটাল ব্যবস্থা সেই ভুলকে কখনোই ডিজিটাল দুর্যোগে পরিণত হতে দিতে পারে না।”

//ডিবিটেক/ বিআর/ ইকে//