পদ্মা সেতু পরিদর্শনে আধুনিক টোল ও সবুজায়নের নির্দেশনা
ইটিসি অগ্রাধিকার, ক্যাশলেস টোলে সেতু বিভাগের জোর
- ইটিসি বাস্তবায়নে নির্দেশনা জোরদার
- ক্যাশলেস টোল ব্যবস্থার অগ্রগতি পর্যালোচনা
- বৃক্ষরোপণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে তাগিদ
দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শতভাগ ক্যাশলেস, স্বয়ংক্রিয় ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) ব্যবস্থার বাস্তবায়ন আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে সেতু বিভাগ। আধুনিক টোল ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং Unified National ETC Framework (UNEF) বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ পদ্মা সেতু সাইট অফিস এবং কচুয়া–বেতাগী সড়কে পায়রা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে এসব নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক, পরামর্শক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে কচুয়া–বেতাগী প্রকল্প এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সচিব প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৬ সালে প্রকল্পটিতে ১,০০০টি গাছ রোপণের কাজ চলমান রয়েছে এবং মোট ২,০০০টি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে পদ্মা সেতু এলাকায় ২০২৬ সালের লক্ষ্যমাত্রা ১৫,০০০টি গাছের বিপরীতে ইতোমধ্যে ৭,৬২২টি বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বক্তব্যে সচিব বলেন, দেশের সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং টানেলে ইটিসি (Electronic Toll Collection) ব্যবস্থা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টোল ব্যবস্থা যানবাহনের গতি বাড়াবে, যানজট কমাবে এবং টোল আদায়ে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, টোল ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে ইটিসি সেবাকে সর্বজনীন করতে হবে। সেবা গ্রহণকারীদের ভোগান্তি কমাতে এবং টোল সংগ্রহকে আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং গ্রাহকসেবাও হবে সহজ ও কার্যকর।
পরবর্তীতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সচিব প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, চলমান কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সেতু বিভাগ জানিয়েছে, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোকে আরও স্মার্ট, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে Unified National ETC Framework (UNEF) বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্যাশলেস টোল সংগ্রহ, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাবে।
//ডিবিটেক/ এনডি/ ইকে//





