সোশ্যাল মিডিয়া ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

  • আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ব্যবসায়ী অপহরণের অভিযোগ।
  • মুক্তিপণ আদায়, নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের।
  • সোশ্যাল মিডিয়া ব্ল্যাকমেল চক্র তদন্তে পুলিশ।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০৭  

নরসিংদী আদালত প্রাঙ্গণ থেকে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ, মারধর এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাসুদ রানা বাবুলকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগের পর অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার বাদী লিখন তালুকদার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ঢাকাভিত্তিক একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই চেক-সংক্রান্ত একটি মামলায় হাজিরা দিতে নরসিংদী আদালতে যান তিনি। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় মাসুদ রানা বাবুলের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে তাকে মারধর করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্ত্রীকে কল দেওয়া হয় এবং নির্যাতনের শব্দ শুনিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে।

মামলায় মাসুদ রানা বাবুল ছাড়াও তার ভাই কামাল সরকার, কামাল ভূইয়া, আবু হানিফ সজিব, ইনসান, শরীফ এবং মোশারফ হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত মাসুদ রানা বাবুল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিভিন্ন পেশাজীবীকে ব্ল্যাকমেল এবং হয়রানির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং অনলাইন অপপ্রচারের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সূত্রের বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১২ সাল থেকে একটি সংঘবদ্ধ ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্র নরসিংদীতে সক্রিয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মেসেঞ্জার, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হতো। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এখনো চলমান।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাসুদ রানা বাবুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

//ডিবিটেক/ জেএনএন/ এমআই//