বিশ্বমঞ্চে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশিদের জয়জয়কার: ওয়ার্ল্ড সামিটে ৬০ আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয়
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এ ইংলিশ ওয়ার্ল্ড কাপ ও সায়েন্স অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে ৬০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয় করেছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াডস বাংলাদেশের (আইওবি) নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের এই দলে ১৭ জনই পুরস্কার অর্জনের গৌরব লাভ করেছেন, যার মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় এসেছে বিশেষ সাফল্য। সিলেটের মোহাম্মদ আরহাম জোহান একাই সর্বোচ্চ ১৩টি এবং অনিরুদ্ধ নিলাদ্রি বিশ্বাস ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মেধার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখল বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’-এর আওতায় ইংলিশ ওয়ার্ল্ড কাপ ও সায়েন্স অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে দেশের শিক্ষার্থীরা একাই ৬০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে। ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াডস বাংলাদেশের (আইওবি) নেতৃত্বে অংশ নেওয়া ১৮ জন খুদে বিজ্ঞানীর হাত ধরে এই ঐতিহাসিক সাফল্য এসেছে।
এবারের আসরে বাংলাদেশের ঝুলিতে এসেছে ২৭টি গোল্ড মেডেল, ৪টি সিলভার মেডেল, ৩টি প্ল্যাটিনাম অ্যাওয়ার্ড, ২টি ডায়মন্ড অ্যাওয়ার্ড এবং ৯টি আন্তর্জাতিক র্যাংকিং। এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য ৪টি ডিন অ্যাওয়ার্ড, ৪টি কাজাখস্তান স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড, ৪টি বেস্ট প্রেজেন্টেশন ও বেস্ট এক্সপেরিমেন্টাল সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড, ১টি জাজেস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড, ১টি মালয়েশিয়া স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড এবং ১টি মর্যাদাপূর্ণ ‘সায়েন্স প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। অংশগ্রহণকারী ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জনই অন্তত একটি করে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় এবারের আসরে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে সিলেটের আনন্দনিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরহাম জোহান। সে বিজ্ঞানে গোল্ড, প্ল্যাটিনাম, আন্তর্জাতিক র্যাংকিং-২, ডিন অ্যাওয়ার্ড, বেস্ট এক্সপেরিমেন্টাল সায়েন্টিস্ট এবং কাজাখস্তান স্পেশাল অ্যাওয়ার্ডসহ মোট ১৩টি পুরস্কার জিতে বাংলাদেশের সেরা পারফর্মারের স্বীকৃতি পেয়েছে। অন্যদিকে, এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অনিরুদ্ধ নিলাদ্রি বিশ্বাস বিজ্ঞানে গোল্ড, প্ল্যাটিনাম, আন্তর্জাতিক র্যাংকিং-৩, ডিন অ্যাওয়ার্ড এবং অনন্য ‘সায়েন্স প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড’সহ ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাফল্য লাভ করে।
বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় আহনাফ তাজওয়ার, মায়মানাহ জান্নাত রহমান, মনজুর আরশ আহসান, মো. জাইম হাসান, জাহিন আবদুল্লাহ, জারির আয়ান আমিন, নাজিয়া জারিন, আরাফ রহমান, সারফরাজ মাহমুদ রুয়াইফী ও ফাইরুজ বিনতে জাকারিয়া গোল্ড মেডেল অর্জন করেছেন। এছাড়া বিজ্ঞান অন্বেষণে সিলভার মেডেল লাভ করেছেন মো. ওয়াকিফ উল্লাহ ইসমাম, মোস্ত. মিফতাহুল জান্নাত ও প্রান্তিক দেবশর্মা পিনাক।
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আধুনিক রূপ প্রত্যক্ষ করতে বাংলাদেশ দলের সদস্যরা ইউনিভার্সিটি অব সাইবারজয়া, ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়া, মালয়েশিয়া ন্যাশনাল মিউজিয়াম ও পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার পরিদর্শন করেন। এই শিক্ষাসফরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক শিক্ষা, আধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়।
শিক্ষার্থীদের এই যুগান্তকারী সাফল্য প্রসঙ্গে আইওবির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুদ্দীন নিশান বলেন, “বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা দক্ষতার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছে। এই সাফল্য তাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।”
আইওবির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. হাবিবুল আলম শিমুল বলেন, “আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের এই অর্জন আমাদের নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাবনার এক অনন্য প্রতিফলন। আমরা চাই দেশের আরও শিক্ষার্থী এমন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের পতাকাকে বিশ্বের বুকে আরও উঁচুতে তুলে ধরুক।”
//ডিবিটেক/এমআই/ইকে//





