শিশু অধিকার ও সচেতনতায় বিরল স্বীকৃতি
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে সাতক্ষীরার দুই তরুণ
- শিশু অধিকারে কাজ করায় আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ২০২৬-এ মনোনীত সুদীপ্ত ও মুশফিক
-
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওয়েবিনার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশু অধিকার বিষয়ে হাজারো মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়ে এবার শিশুদের ‘নোবেল’ হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন সাতক্ষীরার দুই তরুণ সমাজকর্মী মুশফিক উর রহমান (১৭) ও সুদীপ্ত দেবনাথ (১৭)। আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রকাশিত ২০২৬ সালের মনোনীতদের তালিকায় তাঁদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিশু অধিকার সংস্থা 'কিডসরাইটস ফাউন্ডেশন' কর্তৃক ঘোষিত এই সম্মানজনক তালিকায় স্থান পেয়ে তাঁরা বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের সাই-টেক নির্ভর সামাজিক উদ্ভাবন ও তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন।
সুদীপ্ত ও মুশফিক দুজনই সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে তারা বন্ধু এবং শিশু অধিকার নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে একসঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। মুশফিক শহরের মুনজিতপুর এলাকার সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল ও বারছাতুন নেছা দম্পতির সন্তান। সুদীপ্ত শহরের মাস্টারপাড়া এলাকার যামিনী কুমার দেবনাথ ও সেজুতি দেবনাথ দম্পতির সন্তান।
গত চার বছর ধরে উপকূলীয় অঞ্চলে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছেন মুশফিক-সুদীপ্ত। বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিক্ষাবঞ্চনার মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে গ্রাম ও অনলাইন দুই মাধ্যমেই সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন তারা। তাদের উদ্যোগে একাধিক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবারকে শিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে শিশু সুরক্ষা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং শিক্ষার প্রতি শিশুদের আগ্রহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছরও আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল সুদীপ্ত দেবনাথ। এবার একই পুরস্কারের জন্য তার সঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহযোদ্ধা মুশফিক উর রহমান। দুজনেরই লক্ষ্য, উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুযোগ নিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে কাজ করা।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে মুশফিক উর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হতে পেরে তার খুবই ভালো লাগছে। শিশুদের অধিকার রক্ষায় আরও উদ্যমের সঙ্গে কাজ করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সুদীপ্ত দেবনাথ জানান, আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে তিনি ভীষণ আনন্দিত। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে তাঁর ভালো লাগে এবং ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
প্রতিবছর আমস্টারডামভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা কিডসরাইটস (KidsRights) বিশ্বজুড়ে শিশুদের অধিকার রক্ষায় ব্যতিক্রমী অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই নোবেল-সমতুল্য পুরস্কার প্রদান করে থাকে। বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার ২০২০ সালে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে 'সাইবার টিনস' অ্যাপ উদ্ভাবন করে এই মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বমঞ্চে পুরস্কার অর্জন করেছিলেন নড়াইলের তরুণ সাদাত রহমান। এছাড়া বিগত বছরগুলোতেও বাংলাদেশের একাধিক তরুণ এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রযুক্তিভিত্তিক শিশু আন্দোলন ও তারুণ্যের শক্তিকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।
//ডিবিটেক/ডিসিএন/এসএমপি/এফটিপি//
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওয়েবিনার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশু অধিকার বিষয়ে হাজারো মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়ে এবার শিশুদের ‘নোবেল’ হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন সাতক্ষীরার দুই তরুণ সমাজকর্মী মুশফিক উর রহমান (১৭) ও সুদীপ্ত দেবনাথ (১৭)। আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রকাশিত ২০২৬ সালের মনোনীতদের তালিকায় তাঁদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিশু অধিকার সংস্থা 'কিডসরাইটস ফাউন্ডেশন' কর্তৃক ঘোষিত এই সম্মানজনক তালিকায় স্থান পেয়ে তাঁরা বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের সাই-টেক নির্ভর সামাজিক উদ্ভাবন ও তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন।
সুদীপ্ত ও মুশফিক দুজনই সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে তারা বন্ধু এবং শিশু অধিকার নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে একসঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। মুশফিক শহরের মুনজিতপুর এলাকার সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল ও বারছাতুন নেছা দম্পতির সন্তান। সুদীপ্ত শহরের মাস্টারপাড়া এলাকার যামিনী কুমার দেবনাথ ও সেজুতি দেবনাথ দম্পতির সন্তান।
গত চার বছর ধরে উপকূলীয় অঞ্চলে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছেন মুশফিক-সুদীপ্ত। বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিক্ষাবঞ্চনার মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে গ্রাম ও অনলাইন দুই মাধ্যমেই সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন তারা। তাদের উদ্যোগে একাধিক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবারকে শিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে শিশু সুরক্ষা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং শিক্ষার প্রতি শিশুদের আগ্রহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছরও আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল সুদীপ্ত দেবনাথ। এবার একই পুরস্কারের জন্য তার সঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহযোদ্ধা মুশফিক উর রহমান। দুজনেরই লক্ষ্য, উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুযোগ নিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে কাজ করা।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে
সুদীপ্ত দেবনাথ জানান, আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে তিনি ভীষণ আনন্দিত। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে তাঁর ভালো লাগে এবং ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
প্রতিবছর আমস্টারডামভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা কিডসরাইটস (KidsRights) বিশ্বজুড়ে শিশুদের অধিকার রক্ষায় ব্যতিক্রমী অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই নোবেল-সমতুল্য পুরস্কার প্রদান করে থাকে। বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার ২০২০ সালে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে 'সাইবার টিনস' অ্যাপ উদ্ভাবন করে এই মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বমঞ্চে পুরস্কার অর্জন করেছিলেন নড়াইলের তরুণ সাদাত রহমান। এছাড়া বিগত বছরগুলোতেও বাংলাদেশের একাধিক তরুণ এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রযুক্তিভিত্তিক শিশু আন্দোলন ও তারুণ্যের শক্তিকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।
//ডিবিটেক/ডিসিএন/এসএমপি/এফটিপি//





