বিবিএসের জরিপে আইসিটি খাতের ত্রৈমাসিক প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র

দেশের ৫৭ শতাংশের বেশি পরিবারে পৌঁছে গেছে ইন্টারনেট সুবিধা

দেশের ৫৭ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবারে এখন ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন এবং পরিবার পর্যায়ে স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়ে ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

দেশের ৫৭ শতাংশের বেশি পরিবারে পৌঁছে গেছে ইন্টারনেট সুবিধা
৭ জুলাই, ২০২৬ ০০:০০  

দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) ব্যবহার বাড়ছে। সাধারণ মানুষের ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা এখন ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক এক জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৫৭ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবারে এখন ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক হিসাবে এই হার ছিল ৫৫ দশমিক ১ শতাংশ।

​বিবিএসের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) ইন্টারনেট ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যক্তি ও পরিবার—উভয় পর্যায়েই এই প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে এই সময়ে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের মালিকানায় সামান্য পতন হয়েছে। টানা দুই প্রান্তিক বাড়ার পর এবারই প্রথম এই হার কিছুটা কমলো।

​প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের ৫ বছর ও তার বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫) এই হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫) তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশে। এই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় প্রান্তিকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যায় বড় লাফ দেখা গেছে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের মালিকানা দ্বিতীয় প্রান্তিকের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ৬৫ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। যদিও প্রথম প্রান্তিকে এই হার ছিল ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

​ব্যক্তিগত মালিকানা সামান্য কমলেও মুঠোফোন ব্যবহারের সামগ্রিক হার কমেনি। অন্যের মোবাইল যৌথভাবে ব্যবহারসহ সামগ্রিক ব্যবহারের হার দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশে। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সাথে দেশে কম্পিউটারের ব্যবহারও ধীর গতিতে বাড়ছে। তৃতীয় প্রান্তিকে কম্পিউটারের ব্যবহার বেড়ে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। পূর্ববর্তী দুই প্রান্তিকে এই হার ছিল যথাক্রমে ১০ শতাংশ ও ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। এটি দেশে ডিজিটাল ডিভাইসের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

​পারিবারিক বা খানা পর্যায়ে দেখা যায়, পরিবার পর্যায়ে মুঠোফোনের মালিকানা প্রায় শতভাগ অর্থাৎ ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশে এসে স্থির হয়ে আছে। তবে এর মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী পরিবারের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গত অর্থবছরে ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারের স্মার্টফোন ছিল। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। বিপরীতে, পারিবারিক ল্যান্ডফোনের ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদী পতনের মুখে রয়েছে। গত অর্থবছরের শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারে ল্যান্ডফোন আছে। বর্তমানে দেশের ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ পরিবার যোগাযোগের জন্য সম্পূর্ণভাবে মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভর করে। এছাড়া টেলিভিশন ও রেডিওর মতো মাধ্যমের ব্যবহার প্রায় স্থবির হয়ে আছে। পুরো দেশে বিদ্যুৎ সংযোগের হারেও সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এটি প্রথম প্রান্তিকের ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে তৃতীয় প্রান্তিকে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।

​সারাদেশের ২ হাজার ৫৬৮টি নমুনা এলাকা থেকে এই জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতি প্রান্তিকে ৬১ হাজার ৬৩২টি পরিবার এবং বছরে মোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৮টি পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ২১৪ জন প্রশিক্ষিত কর্মী এই তথ্য সংগ্রহ করেন। ২০১৩ সালের পর জেলাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে এটিই বিবিএসের দ্বিতীয় বড় মাপের আইসিটি জরিপ।

​পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, এই ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনগুলোর সমন্বয়ে পরে একটি পূর্ণাঙ্গ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এই তথ্যসমূহ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) ২২টি সূচকে যুক্ত হবে। এটি বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সাহায্য করবে। এই ধারাবাহিক উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও গতিশীল করবে।

//ডিবিটেক/আরআই/এমআই//