বিটাকের ২০তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ ও নিয়োগপত্র বিতরণ
৩ মাসের প্রশিক্ষণে ৩৪৪ জনের মধ্যে চাকরি পেয়েছেন ২৫৫ জন
বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিটাক) পরিচালিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে দেশের অন্যতম সফল সরকারি বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিটাকের একটি প্রকল্পের ২০তম ব্যাচে সফলভাবে ৩ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ৩৪৪ জনের মধ্যে ২৫৫ জন চাকরি পেয়েছেন, যার মধ্যে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে।
সরকারি বিনিয়োগের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করে তার কার্যকর ফলাফলের ওপর। এ বিবেচনায় বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিটাক) পরিচালিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশের অন্যতম সফল বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
৩০ জুন, মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিটাকের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে মহিলাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারণপূর্বক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র ও নিয়োগপত্র প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশে অনেক প্রকল্পে বিনিয়োগ হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তবে বিটাকের এ প্রকল্পে তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ে বিপুলসংখ্যক তরুণ-треুণীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। প্রায় ১২১-১২৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৬ হাজার প্রশিক্ষণার্থী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। মাত্র তিন মাসের এই প্রশিক্ষণ কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও পেশাগত মনোভাব গড়ে তুলছে।
প্রকল্পটির মেয়াদ শেষে কার্যক্রম যেন থেমে না যায় সে বিষয়ে জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে নতুন প্রকল্প বা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিটাকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে বিটাকের প্রশিক্ষকদের সঙ্গে রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।
নারীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০তম ব্যাচে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৬৫ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে, অনেক পুরুষ প্রশিক্ষণার্থী চাকরির পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থান কিংবা উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা করায় তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগ গ্রহণ করেননি। এটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিটাকের প্রশিক্ষণের উচ্চ গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিটাকের কারিকুলাম নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।
বিটাকের মহাপরিচালক মো. ফিরোজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। তিনি বলেন, বিটাকের এই কর্মসূচি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি কার্যকর মডেল হিসেবে নিজস্ব সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীরা কোর্স শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে চাকরির প্রস্তাব পাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিটাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী বিভিন্ন শিল্প গ্রুপে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন এবং সেগুলো প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি বিটাক প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের ২০তম ব্যাচে মোট ৩৪৪ জন প্রশিক্ষণার্থী ৩ মাসব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ২৫৫ জন চাকরি পেয়েছেন, যার অধিকাংশই নারী। ফেজ-২ প্রকল্পে মোট ১৩,২১০ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৮,৪৬৫ জন চাকরি পেয়েছেন, যা মোট প্রশিক্ষণার্থীর প্রায় ৬৪ শতাংশ।
//ডিবিটেক /ইএইচ/ ইকে//





