শিক্ষাছুটি শেষে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় রিজেন্ট বোর্ডের সভায় এই সিদ্ধান্ত
গোবিপ্রবির ১৬ শিক্ষককে স্থায়ী অব্যাহতি, এক জন চাকরিচ্যুত
শিক্ষাছুটি শেষে অননুমোদিতভাবে বিদেশে অবস্থান করায় এবং কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষককে স্থায়ী অব্যাহতি এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে এক শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতি করা হয়েছে।
শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি/গোবিপ্রবি) ১৭ জন শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনিয়মের অভিযোগ নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় আরও এক শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানের সই করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, অননুমোদিতভাবে বিদেশে অবস্থানরত এসব শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে আসেননি। তাই শিক্ষা কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ইইই, পরিসংখ্যান, সিএসই, রসায়ন, আইন, লোকপ্রশাসন, ফার্মেসি, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, এসিসিই, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক রয়েছেন। অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাছুটিকালীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ করা সব ধরনের আর্থিক সুবিধা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অতিসত্বর ফেরত দিতে হবে।
চাকরিচ্যুত ১৬ শিক্ষকদের মধ্যে ইইই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক পান্থ প্রতিম সরকার এবং প্রভাষক মো. আহসানউল্লাহ, মো. খায়রুল বাশার ও উপমা দাস। এ ছাড়া পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাকলী খাতুন, সিএসই বিভাগের প্রভাষক ময়মুনা বেগম কলি, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দেবব্রত পাল এবং আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমানও রয়েছেন।
এ ছাড়া লোকপ্রশাসন বিভাগের মো. মিজানুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের তাসনিয়া নাহিয়ান জুলফিকার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধরা তাহ্সিন, এসিসিই বিভাগের ফারজানা ইয়াসমিন, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের মো. উজ্জল হুসাইন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মাবিয়া খাতুনকেও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অফিস আদেশে বলা হয়, রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ থেকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গৃহীত অর্থও তাকে ফেরত দিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভার ৪৩/৬ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে গঠিত সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করা হয়। পরে রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে মত দেন যে, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগে তিনি সন্দেহাতীতভাবে অভিযুক্ত।
//ডিবিটেক/বিএন/ইকে//





