৫ বছরে জিডিপিতে অবদান ১০%-এ নেওয়ার অঙ্গীকার
আইসিটি বিভাগে ২ হাজার ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আইসিটি বিভাগে ২,০৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব। ৫ বছরে জিডিপিতে অবদান ১০%-এ নেওয়ার লক্ষ্যসহ ৫জি ও ১০০ এমবিপিএস ইন্টারনেট নিশ্চিতের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর।
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের জন্য মোট ২ হাজার ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
১১ জুন, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন। বাজেট বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এবারের প্রস্তাবিত বরাদ্দটি বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা কম। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে আইসিটি বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ২ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বাজেট বক্তৃতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের অমিত সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইসিটি এবং টেলিকম একটি বিপুল সম্ভাবনাময় সেক্টর। এই সেক্টরটি আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠার সক্ষমতা রাখে। অথচ বর্তমানে দেশের সামগ্রিক জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) এ খাতের অবদান মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট ও যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিপিতে এই খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইসিটি খাতকে দেশের একটি শক্তিশালী 'থ্রাস্ট সেক্টর' বা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী কিছু সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় আধুনিক আইসিটি অবকাঠামো নির্মাণ, ওয়্যারলেস ও ওয়্যারলাইন কানেক্টিভিটির ব্যাপক সম্প্রসারণ, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ তৈরি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন করা হবে। একই সাথে নাগরিকদের সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজ করতে 'ওযান সিটিজেন-ওয়ান আইডি-ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট' ব্যবস্থা চালুকরণ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সার্বিক বিকাশে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
| ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আইসিটি বিভাগের জন্য ২,০৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের মূল ও সংশোধিত বাজেটের চেয়ে কম। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ৫ বছরে জিডিপিতে আইসিটির অবদান ১-২% থেকে ১০%-এ উন্নীত করতে সরকার একে 'থ্রাস্ট সেক্টর' হিসেবে গড়ে তুলবে। এই লক্ষ্যে ৯০% মানুষের কাছে ৫জি পৌঁছানো, ১০০ এমবিপিএস ইন্টারনেট গতি নিশ্চিত করা, 'ওয়ান সিটিজেন-ওয়ান আইডি-ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট' চালু এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট দিতে 'ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক' স্থাপনের মেগা পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। |
অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় আরও উল্লেখ করেন যে, আইসিটি খাতের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য সাশ্রয়ী, গুণগত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। এ খাতকে থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) এবং ফাইবার বেইজড কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ইন্টারনেট সেবার মান বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়নসহ ব্যাপক টেলিকম সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মোবাইল অপারেটর এবং ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সার্ভিস প্রোভাইডারসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে সাথে নিয়ে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে দ্রুততম সময়ে ৫জি (5G) নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়া এবং ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস (100 Mbps) ব্রডব্যান্ড গতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সরকার 'ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক' স্থাপনসহ দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন ও বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে দেশের সকল আন্তঃনগর ট্রেন ও বিমানবন্দরগুলোতে উচ্চগতির ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হয়েছে, যার সুফল দেশের সাধারণ জনগণ ইতোমধ্যে ভোগ করছেন।
আইসিটি খাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরে বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়, সরকার বিগত মাত্র চার মাসে দেশে ৪১ লাখ নতুন ৪জি (4G) মোবাইল সংযোগ এবং চার লাখ উচ্চগতির নতুন ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে।
//ডিবিটেক/এমআই/এমইউআইএম//





