৭২ বছরের কৃষককে ২ লাখ টাকার সহায়তা
ফেসবুকের আহাজারিতে সাড়া দিলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীরা
- ইঁদুরে কাটা সঞ্চয়ের বিপরীতে ২ লাখ টাকা পেলেন কৃষক
- কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠানে টাকা তুলে দেন হাসান আহমেদ চৌধুরী
- গাইবান্ধার তোফাজ্জলের পাশে দাঁড়ালেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিরা
আলমারিতে যত্ন করে জমিয়ে রাখা দুই লাখ টাকার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ৭২ বছর বয়সী প্রান্তিক কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর শেষ বয়সে একটু ভালো থাকার প্রত্যাশা। কিন্তু ইঁদুর ও উইপোকার আক্রমণে সেই সঞ্চয় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। টুকরো টুকরো নোট হাতে নিয়ে তার ব্যাকুল আহাজারি সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই হৃদয়বিদারক ডিজিটাল কনটেন্ট নাড়া দেয় দূর পরবাসে থাকা প্রবাসীদের।
তারই ধারাবাহিকতায় ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত ওয়াসা ভবনে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীদের পাঠানো দুই লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা তোফাজ্জল হোসেনের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তির সুবাদে অর্জিত এই সর্বজনীন সংযোগ প্রবাসীদের ভালোবাসাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিপদে ইন্টারনেটের এমন কার্যকর ব্যবহার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো খবরের মাধ্যমে একজন প্রান্তিক কৃষকের জমানো অর্থ নষ্ট হওয়ার ঘটনা জেনে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিরা দ্রুত সাড়া দিয়েছেন। তাঁদের পাঠানো এই দুই লাখ টাকা দেশের মানুষের প্রতি মানুষের পরম মমত্ববোধের পরিচায়ক এবং এর মধ্য দিয়ে প্রবাসীদের গভীর দেশপ্রেম প্রতিফলিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন, কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের বড় মেয়ে মোসাম্মৎ মোর্সেদা এবং গাইবান্ধার স্থানীয় সাংবাদিক ইদ্রিসউজ্জামান মোনা প্রমুখ।
সালেহ উদ্দিন উল্লেখ করেন, কৃষকের এই সঞ্চয় শুধু অর্থ ছিল না, এটি ছিল তার ঘাম, স্বপ্ন ও নিরাপত্তার প্রতীক। ডিজিটাল মাধ্যমের ইতিবাচক শক্তিতে মানবিকতার এমন বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সবার নাগরিক দায়িত্ব।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ধুমাইটারি গ্রামের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন এক দরিদ্র কৃষক। স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও তিন মেয়েকে নিয়ে তার সংসার পরিচালনা সহজ ছিল না। একসময় জীবিকার তাগিদে ঢাকায় রিকশা চালালেও বয়সের ভারে আর না পেরে গ্রামে ফিরে যান এবং অন্যের দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। ৭২ বছর বয়সী এই কৃষকের আলমারিতে রক্ষিত দুই লাখ টাকা উইপোকা কেটে ফেলার পর তার কান্না ও আহাজারির ভিডিও চিত্র মূলধারার অনলাইন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শেয়ার হলে দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের যৌথ প্রভাবে শেষ পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় নতুন করে বেঁচে থাকার নতুন আলো ও আর্থিক নিরাপত্তা পেলেন এই প্রবীণ কৃষক।
//ডিবিটেক/জেএনআর/এমআইএস/এমভিএনও//





