সোমবার বন্ধ থাকবে ক্লাস-পরীক্ষা

চুয়েটে রুটিন দায়িত্ব নিয়ে ফের শাটডাউন

  • অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে
  • সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার এক দিনের একাডেমিক শাটডাউন
  • সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি শিক্ষার্থীদের

চুয়েটে রুটিন দায়িত্ব নিয়ে ফের শাটডাউন
১ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৮  

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে রুটিন প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালনের জন্য তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার (২ নভেম্বর) এক দিনের সর্বাত্মক একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শাটডাউন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ই-মেইল বার্তায় অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনকে এ দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম আগামীকাল ঢাকায় অবস্থান করবেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনকে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি উপাচার্যের রুটিন প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

ই-মেইল অনুযায়ী,  ১ নভেম্বর বিকেল থেকে এ দায়িত্ব কার্যকর হয়েছে। আগামীকাল ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপাচার্য কর্মস্থলে ফিরে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন এ দায়িত্ব পালন করবেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘দাপ্তরিক কাজে আমি ঢাকা গমন করছি। আমার অনুপস্থিতিতে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।’

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে সোমবার এক দিনের সর্বাত্মক একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থার পর শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ বিবেচনায় ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলেন। তবে তাঁদের অবস্থান ছিল, নবনিযুক্ত উপাচার্যকে তাঁরা মেনে নেননি এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে তাঁর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থাকতে পারবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে অন্য একজনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য নিজে উপস্থিত না থেকে অন্যের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার এ প্রচেষ্টা তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন।

শাটডাউন চলাকালে শিক্ষার্থীরা সব ক্লাস, পরীক্ষা এবং রুটিন দায়িত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহতাব হক বলেন, ‘দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর আমরা নিজেদের শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলাম। তবে আমাদের পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব অন্য একজনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। এরই প্রতিবাদে আমরা কাল শাটডাউন ডেকেছি। আমরা চাই, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করা হোক। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

//ডিবিটেক/সিআরএইচ/এসএমপি/এমভিএনও//