তরুণদের জন্য এআই সুবিধা

২৫টির বেশি এআই মডেলে রাইজ এআই

  • বাংলাদেশে ২৫টির বেশি এআই মডেল নিয়ে প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা শুরু
  • ইমাজিন স্টুডিও, স্টাডি হাব ও প্লাগইনস—তিন প্রধান সুবিধা
  • বিনামূল্যের প্যাকেজের পাশাপাশি পাঁচটি মূল্যভিত্তিক সাবস্ক্রিপশন

২৫টির বেশি এআই মডেলে রাইজ এআই
২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৩  

গবেষণা, শিক্ষা, সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি ও দৈনন্দিন কাজের জন্য ২৫টিরও বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে চালু হয়েছে নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘রাইজ এআই’। শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী, কনটেন্ট নির্মাতা ও উদ্যোক্তাদের কাছে উন্নত এআই প্রযুক্তি সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়ে প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে।

ভিয়ন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কান তেরজিওগলু আনুষ্ঠানিকভাবে প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধন করেন। স্বতন্ত্র অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাইজ এআই ব্যবহার করা যাবে। দেশের সব মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকদের জন্যই এটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

তিন বিভাগে এআই ব্যবহারের সুযোগ

রাইজ এআই প্ল্যাটফর্মে রয়েছে তিনটি প্রধান বিভাগ—ইমাজিন স্টুডিও, স্টাডি হাব ও প্লাগইনস। প্রতিটি বিভাগে আলাদা প্রয়োজন অনুযায়ী এআই-ভিত্তিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

ইমাজিন স্টুডিও ব্যবহার করে ছবি, ভিডিও ও অডিও তৈরি করা যাবে। স্টাডি হাবে রয়েছে শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কাজের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সুবিধা। অন্যদিকে, প্লাগইনস বিভাগের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং দৈনন্দিন কাজ সহজ করার বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

বিনামূল্যের প্যাকেজসহ পাঁচ সাবস্ক্রিপশন

প্ল্যাটফর্মটিতে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য একটি বিনামূল্যের প্যাকেজ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে পাঁচটি মূল্যভিত্তিক সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজ। এগুলোর মাসিক মূল্য যথাক্রমে ১০০, ৩০০, ৫০০, ১ হাজার ও ১ হাজার ৫০০ টাকা।

মোবাইল অপারেটর নির্বিশেষে ব্যবহারকারীরা বাংলাদেশি মুদ্রায় এসব প্যাকেজের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। ফলে বিভিন্ন অপারেটরের গ্রাহকেরা একই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ এবং নিজেদের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্যাকেজ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তরুণদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্য

রাইজ এআইয়ের লক্ষ্য শুধু এআই টুল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা নয়; বরং শিক্ষা, গবেষণা, কনটেন্ট নির্মাণ ও দৈনন্দিন কাজে প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ানো। নতুন ধারণা বিকাশ, সৃজনশীলতার সম্ভাবনা অন্বেষণ এবং নতুন উদ্যোগ তৈরিতে তরুণদের সহায়তা করাও প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোহান বুসে বলেন, “আগামী প্রজন্মের উদ্ভাবন যেন ভৌগোলিক অবস্থান, ক্রয়ক্ষমতা কিংবা প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সীমাবদ্ধতায় আটকে না থাকে। বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে অসাধারণ প্রতিভা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তি সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, “রাইজ এআই-এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বমানের প্রযুক্তিকে আরও সহজলভ্য করে তুলছি, যাতে তরুণরা শুধু ডিজিটাল ভবিষ্যতের অংশ হতে পারে তাই নয়, বরং সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণেও ভূমিকা রাখতে পারে।”

উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগ ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির প্রতি রাইজের অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণদের কাছে উদীয়মান প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীল কাজে একাধিক এআই মডেল ব্যবহারের সুযোগ এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মাধ্যমে রাইজ এআই দেশের তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন প্রযুক্তিগত সম্ভাবনার দ্বার খুলতে চায়।
//ডিবিটেক/এমআরআর/এসএমই/এমআইএসটি//