এআই এজেন্টের প্রবেশ ঠেকাতে ওয়েবসাইটে বাড়ছে কড়াকড়ি

এআই এজেন্টের প্রবেশ ঠেকাতে ওয়েবসাইটে বাড়ছে কড়াকড়ি
৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫৬  

ইন্টারনেটে কেনাকাটা বা ফ্লাইট বুকিংয়ের মতো জটিল কাজগুলো ব্যবহারকারীর হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে ইদানীং দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মেটার ‘মিউজ’ কিংবা পারপ্লেক্সিটির ‘কমিক’-এর মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্ট। তবে এসব এআই এজেন্ট ওয়েবসাইটগুলোতে সরাসরি প্রবেশ করে ব্যবহারকারীর নির্দেশমতো তথ্য সংগ্রহ বা পণ্য কিনতে গিয়ে তীব্র বাধার মুখোমুখি হচ্ছে। 

মূলত বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা, ডেটা স্ক্র্যাপিং ও নিরাপত্তার অজুহাতে অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট এবং জেপিমরগানের মতো বহুজাতিক জায়ান্টগুলো এই ভার্চুয়াল এজেন্টগুলোর পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে।

নিরাপত্তা ও অর্থ লেনদেনের জটিলতা
যেসব ক্ষেত্রে সরাসরি আর্থিক লেনদেন জড়িত, সেসব জায়গায় এআই এজেন্টের প্রবেশ আটকানোকে নিরাপত্তার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে দেখছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক জেপিমরগান চেসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) জেরেমাক বার্নাম সম্প্রতি জানান, কিছু এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীদের গোপন লগইন তথ্য হাতিয়ে নিয়ে স্বয়ংক্রিয় কাজ সম্পাদন করে, যা সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যাংকটির সতর্কবার্তা, এই ধরনের অননুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অর্থ লেনদেন ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার ব্যবহারকারীর ওপরই বর্তাবে।

অন্যদিকে, বিশ্বখ্যাত ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন অভিযোগ করেছে যে, পারপ্লেক্সিটির মতো এআই এজেন্ট প্রযুক্তি তাদের প্রবেশের নীতি অমান্য করছে এবং গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ডেটা ঝুঁকির মুখে ফেলছে। 

তবে অ্যামাজনেরও ‘বাই ফর মি’ নামে নিজস্ব একই ধরনের সেবা রয়েছে, যা অন্য ওয়েবসাইটে ঢুকে স্বয়ংক্রিয় কেনাকাটা সম্পাদন করতে পারে। ফলে প্রযুক্তি ও ই-কমার্স খাতের এই দ্বিমুখী আচরণ মূল বাণিজ্যিক স্বার্থের লড়াইকেই স্পষ্ট করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ক্যাপচা ও সাধারণ বটের বিভ্রান্তি
তবে সব ক্ষেত্রে যে কেবল ইচ্ছাকৃতভাবেই এআই এজেন্টদের আটকানো হচ্ছে, তা নয়। অনেক সময় ইন্টারনেটে ক্ষতিকর বট বা ডেটা সংগ্রাহক ঠেকানোর প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেও বৈধ এআই এজেন্ট কাজ সম্পাদন করতে পারছে না।

ওয়ালমার্ট ও জিলোর মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোতে থাকা সাধারণ ‘ক্যাপচা’ বা হিউম্যান ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত আসল মানুষ এবং এআই এজেন্টের নিখুঁত পার্থক্য চিহ্নিত করতে পারছে না। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারী তাঁর এআই সহকারী দিয়ে কোনো কাজ শেষ করার শেষ মুহূর্তে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে আবার নিজেই পর্দায় ফিরছেন।

এই সমস্যা নিরসনে ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো প্রযুক্তি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নতুন প্রোটোকল চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে, যাতে ওয়েবসাইটের মালিকেরা ডেটা চুরির সাধারণ এআই বট এবং মানুষের হয়ে কাজ করা বৈধ এআই এজেন্টের মধ্যে পার্থক্য বুঝে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিতে পারেন।

 ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: এনগ্যাজেট