১০ দিনের আশ্বাসেও মেলেনি সমাধান, পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছে- জানাল প্রশাসন
অনশনের ছয় মাস পরও পদোন্নতি পাননি নোবিপ্রবি শিক্ষক
- পদোন্নতির দাবিতে আমরণ অনশন স্থগিতের ছয় মাস পরও নিষ্পত্তি হয়নি ড. গোলাম মোস্তফার বিষয়টি
- নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পরও পদোন্নতি পাননি ওশানোগ্রাফি বিভাগের এই শিক্ষক
- উপাচার্য জানিয়েছেন, আগে সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির কাজ শেষ করে অধ্যাপক পদের প্রক্রিয়া শুরু হবে
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পদোন্নতি বঞ্চনার প্রতিবাদে আমরণ অনশন স্থগিতের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাননি ওশানোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা। প্রশাসনের আশ্বাসের পরও তার পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনের প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোচ্ছে।গত ২১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করেন ড. গোলাম মোস্তফা। তাঁর সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে অবস্থান নেন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সে সময় ড. মোস্তফা অভিযোগ করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এতে তাঁর পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং তিনি মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যাচাইয়ে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। প্রশাসনের চাওয়া সব তথ্য দেওয়ার পরও পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছিল। অনশনের সময় তাঁর পদোন্নতির বিষয়টি চার বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে ছিল বলে জানান তিনি।
অনশনের দিন দুপুরে তৎকালীন উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা শহীদ মিনারে যান। তৎকালীন উপাচার্য ঢাকায় থাকায় তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে উপ-উপাচার্য ড. মোস্তফাকে আশ্বাস দেন, সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে তাঁর আইনগত ন্যায্য পাওনা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এ আশ্বাসে অনশন স্থগিত করেন তিনি। তবে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ড. মোস্তফা জানিয়েছিলেন, দাবি পূরণ না হলে আবার অনশনে বসবেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, এ কর্মসূচি পদ পাওয়ার জন্য নয়, বরং তাঁর সঙ্গে হওয়া অন্যায়, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদে।
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তৎকালীন প্রশাসন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী নোবিপ্রবির সপ্তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তবে নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পরও ড. মোস্তফার পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।
এ বিষয়ে বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহে আফরান আবির বলেন, “অনশনের দিন তৎকালীন ভিসি ও প্রো-ভিসিসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্যারকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, অতি দ্রুত তাঁর পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, নতুন ভিসি ও প্রো-ভিসি দায়িত্ব গ্রহণের পরও বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষকের ন্যায্য প্রাপ্য, পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। মাহে আফরান আবির বলেন, “আমরা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ড. গোলাম মোস্তফা স্যারের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা পুনর্ব্যক্ত করছি এবং বর্তমান প্রশাসনের কাছে নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করে দ্রুত সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।” প্রশাসন আগের আশ্বাসের যথাযথ মূল্যায়ন করে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও পদোন্নতি না পাওয়ার বিষয়ে ড. গোলাম মোস্তফা বলেন, “এটা জুলুমের এক্সট্রিম লিমিট পার হয়ে গেছে। আমার আর কোনো ভাষা নাই।”
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনের কাজ চলছে। প্রথমে সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক পদের বোর্ডগুলোর কার্যক্রম চলছে। এরপর অধ্যাপক পদের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উপাচার্য জানান, শুধু ড. মোস্তফা নন, অধ্যাপক হওয়ার যোগ্য আরও অনেক শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে আছে। এ বিষয়ে বেশ কিছু আবেদনও জমা পড়েছে। অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য বিশেষজ্ঞ মতামত প্রয়োজন হলেও আলাদা কোনো ভাইভা লাগে না। প্রশাসন ধাপে ধাপে যোগ্য সবার পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
আগামী রিজেন্ট বোর্ড সভার আগেই ড. মোস্তফার পদোন্নতির প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব কি না, জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, তার আগে কাজটি সম্পন্ন করা বেশ কঠিন।
//ডিবিটেক/এসএইচএম/এসএমই/এমভিএনও//





