দেড় কোটি ডলারের প্রকল্পে দর্শক সাড়া কম

এআই সিনেমার অভিষেক, বক্স অফিসে অনিশ্চয়তা

  • চীনে সম্পূর্ণ এআই-নির্মিত সিনেমা ‘সানশিংদুই: ফিউচার পাস্ট’ মুক্তি পেয়েছে
  • নির্মাণে ব্যয় এক কোটি ইউয়ানের বেশি, আগাম টিকিট বিক্রি মাত্র ৮০ হাজার ইউয়ান
  • দৌইনে এআই-নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটকের সেপ্টেম্বরের দর্শনসংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০০ বিলিয়ন

এআই সিনেমার অভিষেক, বক্স অফিসে অনিশ্চয়তা
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৬  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবার পৌঁছেছে বড় পর্দায়। চীনে সম্পূর্ণ এআই প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সানশিংদুই: ফিউচার পাস্ট’ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। তবে মুক্তির আগের টিকিট বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায় সিনেমাটির বাণিজ্যিক সাফল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্রটি দেখাচ্ছে, এআই দিয়ে পুরো সিনেমা তৈরি করা সম্ভব হলেও দর্শককে টিকিট কিনে প্রেক্ষাগৃহে টানতে পারা আলাদা চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর থ্রিলারটি মুক্তির প্রথম দিনে চীনে ১০ হাজারের বেশি প্রদর্শনীর জন্য নির্ধারিত হয়েছিল বলে টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম মাওইয়ানের তথ্যের বরাতে জানিয়েছে এএফপি। অর্থাৎ, ১০ হাজার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির বদলে এখানে ১০ হাজারের বেশি প্রদর্শনীর পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।

মাওইয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ছবিটির আগাম টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল ৮০ হাজার ইউয়ান, যা প্রায় ১১ হাজার ৯৮০ মার্কিন ডলারের সমান। ওই সময় প্রাথমিক পূর্বাভাসে মোট বক্স অফিস আয় দেড় লাখ ইউয়ানের নিচে থাকার আশঙ্কা করা হয়। টিকিটের দাম ছিল ২০ থেকে ৯০ ইউয়ানের মধ্যে।

এই সম্ভাব্য আয় ছবিটির নির্মাণ ব্যয়ের তুলনায় সামান্য। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বোনা ফিল্ম গ্রুপ জানিয়েছে, সিনেমাটি নির্মাণে এক কোটি ইউয়ানের বেশি—প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন ডলার—ব্যয় হয়েছে। প্রায় ১০০ জনের একটি দল দুই বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করেছে।

ছবিটির অভিনয়শিল্পী, কণ্ঠস্বর ও পটভূমি—সবই এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। গল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং মানবতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে সিনেমাটি শুধু নতুন প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; প্রচলিত চলচ্চিত্র নির্মাণপদ্ধতির বাইরে গিয়ে গল্প, দৃশ্য ও চরিত্র তৈরির সম্ভাবনাও পরীক্ষা করছে।

বোনা ফিল্ম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী জিয়াং দেফু সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে দর্শকের তুলনামূলক কম আগ্রহের কথা স্বীকার করলেও সিনেমাটিকে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেন। চীনা চলচ্চিত্রবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইউলিকে তিনি জানান, এ ধরনের সিনেমা নির্মাণ, প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের অনুমতি পাওয়া এবং দর্শকের সামনে পরীক্ষার উদ্যোগ তাঁরাই প্রথম নিয়েছেন।

চীনে এআই-নির্মিত ভিডিওর জনপ্রিয়তা অবশ্য দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম দৌইনে—যা আন্তর্জাতিকভাবে টিকটক নামে পরিচিত—শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই এআই দিয়ে তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটকগুলো ২০০ বিলিয়নের বেশি বার দেখা হয়েছে বলে এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অনলাইনে ভিডিওর বিপুল দর্শকসংখ্যা প্রেক্ষাগৃহে টিকিট বিক্রির নিশ্চয়তা দেয় না। এআই-নির্মিত কনটেন্ট নিয়ে দর্শকের কৌতূহল থাকলেও সেটির জন্য অর্থ খরচ করার সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে গল্প, দৃশ্যমান মান এবং সামগ্রিক সিনেমার অভিজ্ঞতার ওপর।

চীনের এই মুক্তি তাই এআই চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা: প্রযুক্তি দিয়ে সম্পূর্ণ সিনেমা তৈরি করার সক্ষমতা প্রমাণের পাশাপাশি নির্মাতাদের এখন দেখাতে হবে, সেই সিনেমার জন্য দর্শক অর্থ ব্যয় করতেও আগ্রহী কি না।

//ডিবিটেক/আইএনএম/এমএসআই/এমভিএনও//