মানসিক অসুস্থতার দাবি ও মুঠোফোন হ্যাক হওয়ার নতুন ব্যাখ্যা
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এসিল্যান্ডের পদত্যাগ ও মৃত্যুর জন্য ইউএনওকে দায়ী করার ঘটনা
- ফেসবুকে ইউএনও শিল্পী রানী মোদককে মৃত্যুর জন্য দায়ী করে পদত্যাগের ঘোষণা সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানের
- ঘটনার রাতে অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে সিলেট ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়
- ইউএনও দাবি করেছেন এসিল্যান্ড মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং তার মুঠোফোন হ্যাক হয়েছিল
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পরপর দুটি পোস্টে ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ এবং ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’ বলে লেখার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। গত শুক্রবার (স্থানীয় সময় অনুযায়ী) রাত পৌনে ১১টার দিকে এই পোস্টগুলো দেখার পর পুলিশসহ স্থানীয়রা তার বাসায় ছুটে যান এবং পরবর্তীতে অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল, পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সবশেষ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক জানান, এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার রাতে ইউএনওর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিনের কেক কাটার অনুষ্ঠানে আরিফুর রহমান ও তার স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন এবং সেখান থেকে বের হওয়ার পরই এই পোস্টগুলো দেওয়া হয়। ইউএনওর ভাষ্য অনুযায়ী, তিন দিন আগে জামালগঞ্জে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা দেখার পর থেকেই এসিল্যান্ড মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ও অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। এমনকি ওই রাতে তিনি এক আনসার সদস্যকে মারধর ও রাস্তায় লোকজনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে আরিফুর রহমানকে মানসিকভাবে অসুস্থ মনে হয়েছে এবং তার স্ত্রীর কথামতো ঘুমের ওষুধ দেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় রাতেই তাকে সিলেটে পাঠানো হয়। ঘটনার পর এসিল্যান্ডের দাফতরিক মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং জামালগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পেজ থেকে দাবি করা হয় যে তার আইডি হ্যাক হয়েছে।
পরবর্তীতে শনিবার বিকালে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক গণমাধ্যমকে জানান যে, এসিল্যান্ডের মুঠোফোন হ্যাক হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জামালগঞ্জ থানার ওসির মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই না করে এমন পোস্ট দেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে নানাবিধ সমালোচনাও তৈরি হয়েছে।
//ডিবিটেক/বিটিআর/এমএসআই/এসএমপি//





