আয় বেড়েছে ৭ শতাংশ

তৃতীয় প্রান্তিকে রবির মুনাফা ২৫১ কোটি টাকা

  • তৃতীয় প্রান্তিকে কর-পরবর্তী মুনাফা ২৫১.৩ কোটি টাকা
  • রবির সক্রিয় গ্রাহকের ৭২ শতাংশ এখন ফোরজি ব্যবহারকারী
  • প্রথম নয় মাসে সরকারের কোষাগারে জমা ৪,৯৭৫.৬ কোটি টাকা

তৃতীয় প্রান্তিকে রবির মুনাফা ২৫১ কোটি টাকা
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১০  
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২১  

২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) ২৫১.৩ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা (পিএটি) করেছে রবি অ্যাক্সিয়াটা পিএলসি। এ সময়ে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৮৬.৭ কোটি টাকা। মুনাফার মার্জিন ছিল ৯.৪ শতাংশ এবং শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৮ টাকা, যা বছরওয়ারি ৩.৭ শতাংশ বেশি।

প্রান্তিক শেষে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৯২ লাখে। ইন্টারনেট গ্রাহক ছিলেন ৪ কোটি ৬৮ লাখ এবং ফোরজি গ্রাহক ৪ কোটি ২৮ লাখ। কোম্পানির মোট সক্রিয় গ্রাহকের ৭২ শতাংশ এখন ফোরজি ব্যবহার করছেন। রবির মতে, এই চিত্র দেশে ডিজিটাল সংযোগের বিস্তার এবং ফোরজি প্রযুক্তি গ্রহণের ধারাবাহিক অগ্রগতিকে তুলে ধরে।

ইবিআইটিডিএ মার্জিন ৫২.৮ শতাংশ

তৃতীয় প্রান্তিকে সুদ, কর, অবচয় ও পরিশোধনের আগের মুনাফা (ইবিটডা) হয়েছে ১ হাজার ৪১৯.৭ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে মার্জিন ছিল ৫২.৮ শতাংশ, যা গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ১.৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। কোম্পানিটি জানিয়েছে, পরিচালন দক্ষতা ও ব্যবসায়িক মূল্য বৃদ্ধির ওপর ধারাবাহিক মনোযোগ এই উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছে।

নেটওয়ার্কের মান ও সক্ষমতা বাড়াতে প্রান্তিকটিতে ৩৪১.৯ কোটি টাকা মূলধনি বিনিয়োগ করেছে রবি। প্রান্তিক শেষে দেশজুড়ে কোম্পানিটির চালু ফোরজি সাইটের সংখ্যা ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে। এসব সাইটের মাধ্যমে গ্রাহকদের ডিজিটাল সংযোগসেবা দেওয়া হচ্ছে।

এ সময়ে সরকার কোষাগারে ৭০০.৭ কোটি টাকা জমা দিয়েছে কোম্পানিটি, যা প্রান্তিকের মোট রাজস্বের ২৬ শতাংশ।

আগের প্রান্তিকের তুলনায় কিছু সূচকে অবনতি

বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি থাকলেও আগের প্রান্তিকের তুলনায় রবির কয়েকটি আর্থিক সূচকে পতন হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব ০.৯ শতাংশ কমেছে। ইবিটডা কমেছে ৪.৯ শতাংশ এবং ইবিটডা মার্জিন কমেছে ২.২ শতাংশ পয়েন্ট। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ৪.৪ শতাংশ।

প্রথম নয় মাসে রাজস্ব প্রায় ৭,৯৩০ কোটি টাকা

২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) রবির মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৭ হাজার ৯২৯.৬ কোটি টাকা। এ সময়ে কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৪৬.৫ কোটি টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১.৪৩ টাকা।

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট মূলধনি বিনিয়োগ ছিল ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। একই সময়ে সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে ৪ হাজার ৯৭৫.৬ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের মোট রাজস্বের ৬৩ শতাংশ।

নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল সেবায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে রবি

কোম্পানির আর্থিক ফলাফল সম্পর্কে রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, “২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফল আমাদের ব্যবসার মৌলিক সক্ষমতার স্থিতিশীলতা এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল সংযোগের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরে। বর্তমানে রবির সক্রিয় গ্রাহকের ৭২ শতাংশ ফোরজি ব্যবহারকারী। এটি বাংলাদেশের চলমান ডিজিটাল অগ্রযাত্রা এবং সেই রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে রবির অগ্রণী ভূমিকার প্রতিফলন।”

তিনি জানান, নেটওয়ার্কের মান উন্নয়ন, গ্রাহক অভিজ্ঞতা বাড়ানো এবং উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে রবি বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে।

জিয়াদ সাতারা আরও বলেন, দেশের ডিজিটাল লক্ষ্য পূরণে সহায়তা এবং গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার ও অন্যান্য অংশীজনের জন্য টেকসই মূল্য সৃষ্টির লক্ষ্যে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ, পরিচালন উৎকর্ষ ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।

//ডিবিটেক/আইআরজে/এমএসপি/এফওই//