সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
যবিপ্রবিতে ১৬তম রসায়ন অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির উদ্যোগে অলিম্পিয়াডের আয়োজন
- সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়
- সেরা দশ প্রতিযোগীকে সনদ ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়
বিজ্ঞানমনস্কতা ও রসায়ন শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড ২০২৭।
৩১ অক্টোবর, শনিবার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজনে সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে সেরা ১০ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক ও সনদ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির উদ্যোগে এবং যবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের আয়োজনে অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রতিযোগিতা শেষে সেরা ১০ শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “ডিজিটাল আসক্তি এখন মারাত্মক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মোবাইলের এই নেশা ছেড়ে তোমাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে। সবসময় বড় স্বপ্ন দেখবে, আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রম থাকলে তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন নোবেল বিজয়ী হওয়া সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “অলিম্পিয়াডের মতো প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, জানার আগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করাটাই আসল। রসায়নকে ভালোবেসে, আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে নিজেদের দক্ষ রসায়নবিদ ও দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলো।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, “কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডের মতো আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো পাঠ্যবইয়ের জটিল বিষয়গুলোকে তোমাদের সামনে সহজ ও আনন্দদায়কভাবে তুলে ধরা। আমি আশা করি, তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অমর্ত্য সেন কিংবা আব্দুস সালামের মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব ও নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী তৈরি হবে।”
তিনি আরও বলেন, “একজন অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, সন্তান ও শিক্ষার্থীরা যখন নিজ নিজ যোগ্যতায় আমাদের ছাড়িয়ে অনেক বড় অবস্থানে পৌঁছায়, সেখানেই একজন শিক্ষক ও মা-বাবার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও গর্ব নিহিত থাকে। আশা করি তোমরা একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কে. এম. আনিস-উল-হক। এ সময় বক্তব্য দেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে রসায়ন বিভাগের শিক্ষক, বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/জেএনএইচ/এসএমপি/এমআইএসটি//





