ক্ষুদ্র কৃষকের সহনশীলতা
জলবায়ু-স্মার্ট কৃষিতে সার্কের প্রশিক্ষণ শুরু
- দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র কৃষকদের সক্ষমতা বাড়াতে তিন দিনের প্রশিক্ষণ
- জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তি ও কৃষি অভিযোজন কৌশল নিয়ে আলোচনা
- বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আঞ্চলিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র কৃষকদের সক্ষমতা ও সহনশীলতা বাড়াতে তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি), বাংলাদেশ। প্রশিক্ষণে জলবায়ু-সহনশীল কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণালব্ধ জ্ঞান বিনিময় এবং কৃষির অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশল গুরুত্ব পাচ্ছে।
৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার ভার্চুয়ালি এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কৃষি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং কৃষিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। কর্মসূচিটি চলবে আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত।
ক্ষুদ্র কৃষকের সক্ষমতা উন্নয়নে আঞ্চলিক উদ্যোগ
প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল কৃষিপদ্ধতি, প্রযুক্তি ও কৌশলের বিস্তার ঘটানো। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্ষমতা বাড়ানো।
উদ্বোধনী অধিবেশন সঞ্চালনা করেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ড. রাজা উল্লাহ খান। স্বাগত বক্তব্য ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কেন্দ্রটির পরিচালক ড. মো. গোলাম মাহবুব। তিনি কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
জলবায়ু-স্মার্ট কৃষিতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নূতন কৌশিক। তাঁর প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-স্মার্ট কৃষির সম্প্রসারণ: ক্ষুদ্র কৃষকদের সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর’।
প্রবন্ধে তিনি ক্ষুদ্র ও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা কৃষক জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষির বিস্তার ঘটাতে হলে কৃষকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোরও প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালে অবস্থিত সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমদ তরফদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক।
৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে কারিগরি আলোচনা
তিন দিনের এ প্রশিক্ষণে জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, ক্ষুদ্র কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে—এমন সহনশীল কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
এ সময় কারিগরি অধিবেশন, বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপনা এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর প্রযুক্তি ও অভিযোজন কৌশল চিহ্নিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে।
//ডিবিটেক/এবিআর/এসএমপি/আরপিও//





