মাদকবিরোধী সমন্বিত উদ্যোগ
মাদক কারবারিদের তথ্যভান্ডার তৈরির প্রস্তাব
- মাদক কারবারিদের তথ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব
- অর্থের জোগানদাতা ও নেপথ্যের চক্র শনাক্তে গুরুত্ব
- নজরদারি, প্রযুক্তি ও আন্তসংস্থা সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান
মাদক কারবারের মূল সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা এবং নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি (চার্জ) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান। তাঁর মতে, মাদক কারবারিদের তথ্য নিয়ে সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার পক্ষে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে ‘পলিসি ডায়ালগ অন এ ড্রাগ ফ্রি বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক নীতিসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে মাদক কারবারিদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো মুহূর্তেই অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারবে। এ জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
রেলপথকে মাদক পরিবহনের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে উল্লেখ করেন রেলওয়ে পুলিশের প্রধান। তিনি বলেন, মাদক কারবারিরা পরিবহনের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছে।
বিশাল রেল নেটওয়ার্ক, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চলাচল এবং স্টেশনগুলোতে মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে রেলপথে নজরদারি করা বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রেলওয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মাদকের চালান কারা সংগ্রহ করছে, কারা অর্থায়ন করছে এবং কারা নেপথ্যে থেকে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে—তা খুঁজে বের করা জরুরি। শুধু মাদক বহনকারী বা সরাসরি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে পুরো সরবরাহব্যবস্থা ভাঙা সম্ভব হবে না। এর পেছনে থাকা অর্থদাতা ও নিয়ন্ত্রকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাষ্ট্র, প্রশাসন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
নীতিসংলাপে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়; শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রও। মাদক প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের কেউ মাদকে জড়িয়ে পড়লে কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা না ভেবে এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানের পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন, ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাবের মো. সোয়াইব এবং রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হসপিটালের মনোরোগ বিভাগের প্রধান পরামর্শক ডা. এস এম কবির জুয়েলসহ অন্যরা।
নীতিসংলাপে আলোচকেরা মাদক নিয়ন্ত্রণে অপরাধী চক্র শনাক্ত ও দমনের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
//ডিবিটেক/বিএনআর/এসএমপি/এমভিএনও//





