ডেটা সেন্টারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি

সিলেটে দেশের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্রামীণফোনের

  • সিলেট ডেটা সেন্টারে ৩২৫ কিলোওয়াট-পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু

  • বছরে ৩০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য

  • ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৫০ শতাংশ কমাতে চায় গ্রামীণফোন

সিলেটে দেশের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্রামীণফোনের
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০৬  

ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে গ্রামীণফোন। এর অংশ হিসেবে সিলেট ডেটা সেন্টারে ৩২৫ কিলোওয়াট-পিক (kWp) সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি। গ্রামীণফোনের দাবি, এটি বাংলাদেশের কোনো ডেটা সেন্টারে স্থাপিত বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ (ইপিসি) অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে জেডটিই।

২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৪৫০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। কেন্দ্রটি থেকে বছরে ৩০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশা করছে গ্রামীণফোন। এতে প্রতি বছর প্রায় ১৮৮ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেটা সেন্টার ডিজিটাল সেবা পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এসব স্থাপনার নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রমে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। ফলে সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিবেশগত প্রভাব কমানোর একটি উপায়।

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, ডেটা সেন্টারের কার্যক্রমে নবায়নযোগ্য শক্তি যুক্ত করার মাধ্যমে পরিবেশের ওপর প্রভাব কমানো এবং টেকসই অবকাঠামোর সাহায্যে ডিজিটাল সংযোগ ও সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করাই তাদের লক্ষ্য।

প্রকল্পটি কোম্পানির ২০১৯ সালের ভিত্তিবছরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং দায়িত্বশীল সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিলেট ডেটা সেন্টারে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান। অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা আবুল কাসেম মহিউদ্দিন আল-আমিন, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা অটো মাগনে রিসব্যাক এবং প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ফারহা নাজ জামান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জেডটিই বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাও জুন্যং অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইয়াসির আজমান জানান, বাংলাদেশের চলমান ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য এমন অবকাঠামো প্রয়োজন, যা নির্ভরযোগ্য ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতিও দায়বদ্ধ থাকবে।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের ভিত্তি বছরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রামীণফোনের কার্বন নির্গমন ৫০% কমিয়ে আনার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি আমরা। এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের ক্রমাগত পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং কার্যক্রমজুড়ে টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।

সিলেট ডেটা সেন্টারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে এই লক্ষ্যে একটি বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে ইয়াসির আজমান জানান, কোটি কোটি গ্রাহককে সেবা দেওয়া ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরিবেশগত প্রভাব কমানোর পথও দেখাচ্ছে এই উদ্যোগ।

তিনি আরও জানান, গ্রাহক, সমাজ ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করতে পারে—এমন টেকসই ও উদ্ভাবনী সমাধানে গ্রামীণফোন বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে।

জেডটিই বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাও জুন্যং জানান, বাংলাদেশের কোনো ডেটা সেন্টারে বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর উদ্যোগে গ্রামীণফোনের অংশীদার হতে পেরে তারা গর্বিত।

তিনি জানান, এই প্রকল্পটি দেখায় যে কীভাবে উন্নত প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি একত্রিত হয়ে আরও জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও টেকসই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে।

মাও জুন্যং আরও জানান, ডেটা সেন্টারের কার্যক্রমে উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ সমাধান যুক্ত করার মাধ্যমে কার্বন নির্গমন কমাতে সহায়তা করছে জেডটিই। এই উদ্যোগ গ্রামীণফোনের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তার মতে, যৌথ প্রকল্পটি টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি শিল্পে একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে এবং বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব, টেকসই ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখতে পারে।

গ্রামীণফোনের এই উদ্যোগ ব্যবসায়িক কার্যক্রমে টেকসই উন্নয়নের নীতি একীভূত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। প্রতিষ্ঠানটি এমন প্রযুক্তি ও সমাধানে বিনিয়োগ করতে চায়, যা পরিচালনগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশগত সুফলও দেবে।

নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ, জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি গ্রহণ এবং সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশে কম কার্বন নির্গমননির্ভর ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে গ্রামীণফোন। //ডিবিটেক/বিসিএস/এসএমপি/এমআইএসটি//