সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা ও এআই খাতে সহযোগিতার আশ্বাস সুইডেনের

  • ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস
  • বৈঠকে ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ‘ওয়ান আইডি–ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়
  • সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য গণমাধ্যম বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করা নয় বলে স্পষ্ট করেছেন মন্ত্রী

ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা ও এআই খাতে সহযোগিতার আশ্বাস সুইডেনের
১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫২  

ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস (Nicolas Weeks)। রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও সুইডেনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল জনপরিকাঠামো এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আলোচনায় ‘ওয়ান আইডি–ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগ, নিরাপদ ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা, অনলাইন আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা এবং নাগরিকবান্ধব ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে নিরাপদ ব্যাংকিং ও পরিচয়প্রযুক্তি, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। মন্ত্রী বৈঠকে জানান যে, ডিজিটাল সেবা ও অবকাঠামোর সম্প্রসারণের পাশাপাশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়; বরং অনলাইন হয়রানি, অপপ্রচার, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। প্রস্তাবিত আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ সম্মান রাখা হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এআইয়ের সুফল নেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ ও নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো উন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সুইডেনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে পূর্বানুমেয় নিয়ন্ত্রক পরিবেশ, সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ ও বহুমুখী প্রযুক্তি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈঠকে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অভিভাবকের ভূমিকা এবং ডিজিটাল শিক্ষার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে সুইডেন দূতাবাসের প্রথম সচিব ওলি লুন্ডিন (Ollie Lundin) উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি খাতে বিদ্যমান যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

//ডিবিটেক/আইসিটেএমজেইউ/সএসএমপি/এমআইএসটি//