তিন লরিতে এলো জ্বালানি, ডিসেম্বরে সরবরাহ শেষ করার লক্ষ্য রাশিয়ার

রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের চতুর্থ ইউরেনিয়াম চালান

  • সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে পৌঁছায় দ্বিতীয় ইউনিটের চতুর্থ চালানের ইউরেনিয়াম 
  • দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাত কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি
  • প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপনে আরও ৪৮টি অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা 

রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের চতুর্থ ইউরেনিয়াম চালান
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:০৭  

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের চতুর্থ চালানের পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানি বহনকারী তিনটি লরি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

এর আগে  রাশিয়া থেকে বিশেষ ফ্লাইটে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইউরেনিয়াম বহনকারী বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। শনিবার রাত ৩টার দিকে জ্বালানিবাহী তিনটি লরি বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

জ্বালানি পরিবহনের সময় মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। পুলিশ ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঢাকা থেকে সড়কপথে জ্বালানি বহন করা হয়। এ সময় মহাসড়কে যানজট এড়াতে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য দুটি কার্গোতে অতিরিক্ত ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আনার কথা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ইউনিটের চতুর্থ চালানটি শনিবার রূপপুরে পৌঁছায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে আরও সাতটি ফ্লাইটে ইউরেনিয়ামের চালান দেশে আসার কথা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে পৌঁছায়। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে আরও চারটি চালানে জ্বালানি রূপপুরে নেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপন করা হয়। প্রায় দেড় বছর পর প্রথম ইউনিটের ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। এ কারণে চলতি মাসের ৩ অক্টোবর প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানির একটি চালান রূপপুরে আনা হয়। এ ছাড়া ২১ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের দ্বিতীয় চালান এবং ২৭ অক্টোবর তৃতীয় চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া রূপপুরের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

এদিকে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষে ইউরেনিয়াম উত্তপ্তকরন  প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

//ডিবিটেক/ রঞ্জিত কুমার শীল/ এসেমপি/এমআইএসটি//