প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের যুক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ

উচ্চশিক্ষায় স্যাটেলাইট টিভি চালুর পরিকল্পনা ইউজিসির

  • উচ্চশিক্ষার সুযোগের বৈষম্য কমাতে আলাদা টেলিভিশন চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা
  • দুই বছরে প্রায় ১৮০টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার লক্ষ্য
  • উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা

উচ্চশিক্ষায় স্যাটেলাইট টিভি চালুর পরিকল্পনা ইউজিসির
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:২৪  

উচ্চশিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুযোগের ব্যবধান কমাতে আলাদা স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ উদ্যোগের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান প্রযুক্তিগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে শুরু করার কথা ভাবছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১৮০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

তিনি জানান, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার সুযোগ ও একাডেমিক কার্যক্রমে বৈষম্য রয়েছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শহরাঞ্চলে, আবার কোনোটি প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য পৃথক টেলিভিশন চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে।

দুই বছরে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের লক্ষ্য

ইউজিসি চেয়ারম্যানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১৮০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট, ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ এবং ডিজিটাল ক্যাম্পাসের প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলা হবে।

এ ধরনের অবকাঠামো তৈরি হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একাডেমিক যোগাযোগ, যৌথ গবেষণা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক ও গবেষকদেরও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

এআইয়ের যুগে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স ও অনলাইন প্রযুক্তির বিকাশ প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। মানসম্মত, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই মানুষ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবর্তিত বাস্তবতায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপদ্ধতি ও অবকাঠামোকে যুগোপযোগী করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে ইউজিসি ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ

প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা সব বয়স, সামাজিক অবস্থান ও অঞ্চলের মানুষকে শিক্ষার আওতায় আনতে পারে না বলে মনে করেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ। এর ফলে অনেকে ঝরে পড়েন অথবা মূলধারার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে এসব মানুষের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থী রয়েছেন। মানসম্মত ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা

অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ধারণা দিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে তা বাস্তবায়িত হয়।

দূরশিক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা, পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া সেন্টার এবং দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক রয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পৃথক টেলিভিশন চ্যানেলের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান খান। মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/আইএইচইউ/এমপিএন/এফওই//