নম্বর যাচাই ও পুনর্মূল্যায়ন দাবি
স্বর্ণপদক মনোনয়নে অনিয়মের অভিযোগ শাবিপ্রবি শিক্ষিকার
- প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের প্রার্থী বাছাইয়ে ইউজিসির নীতিমালা না মানার অভিযোগ
- সমান সিজিপিএর দুই প্রার্থীর নম্বর তুলনায় বৈষম্যের দাবি শিক্ষিকার
- বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ইউজিসির নির্দেশনা অনুসারে পুনরায় যাচাই হয়েছে
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য প্রার্থী মনোনয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা। সমান সিজিপিএধারী দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রকৃত প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা না করেই একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জৈব রসায়ন ও আণবিক জীববিদ্যা (বিএমবি) বিভাগের প্রভাষক সানজিদা আক্তার।
৩১ অক্টোবর, শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগ জানান। স্বর্ণপদকের প্রার্থী বাছাইয়ে পূর্ববর্তী মনোনয়ন পরিবর্তন, একাডেমিক নম্বর সংরক্ষণে ঘাটতি এবং পুনঃযাচাইয়ের কাগজপত্র পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে সানজিদা আক্তার বলেন, তাঁর ও অপর এক প্রার্থীর সিজিপিএ সমান। দুজনই পরবর্তী সময়ে একই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ইউজিসির ২০১৭ ও ২০২৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, সিজিপিএ সমান হলে প্রাপ্ত নম্বরের শতকরা হার বা নম্বর বিবেচনার নিয়ম রয়েছে। বিভাগের সংরক্ষিত রেকর্ড পর্যালোচনা করে তিনি দেখতে পেয়েছেন, স্নাতকের মোট ৬৩টি কোর্সের মধ্যে ৪৫টির প্রকৃত নম্বরে তিনি অপর প্রার্থীর চেয়ে ৪০ দশমিক ২৫ নম্বরে এগিয়ে রয়েছেন।
তার অভিযোগ, প্রকৃত প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা না করেই অন্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সব কোর্সের নম্বর যাচাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে সেখানে নম্বর সংরক্ষিত নেই বলে জানানো হয়।
সানজিদা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তরে নম্বর সংরক্ষিত না থাকার কারণে একজন শিক্ষার্থী কেন তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন? যেখানে ২০২১ সালে একই অনুষদের সকল বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়ে ইউজিসি মেধাবৃত্তি পেয়েছি, সেখানে আমি কেন ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত হবো?”
তিনি আরও বলেন, “২০২২ সালে বিভাগ থেকে আমাকে প্রথম মনোনয়ন দিয়ে ডিন অফিসে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আমার পরিবর্তে অন্য প্রার্থীর নাম ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে। সেটা কীভাবে হলো, আমি তা কোনোভাবেই জানতে পারিনি।”
২০২৬ সালের জুনে ইউজিসির পুনঃযাচাই-সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পর তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো পাঠানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও ডিন বা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে স্পষ্ট তথ্য পাননি বলে জানান তিনি।
সানজিদার ভাষ্য, পুরো প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতার অভাব ছিল। বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় প্রধান, ডিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ এবং লিখিত আবেদন করেও সুনির্দিষ্ট সমাধান পাননি। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি সম্পর্কে অস্পষ্ট তথ্য পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গত ৯ আগস্ট এবং পরবর্তী সময়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান সানজিদা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইউজিসির নীতিমালা অনুসারে বিষয়টি তদন্ত এবং প্রকৃত একাডেমিক রেকর্ডের ভিত্তিতে স্বচ্ছ পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।
তিনি বলেন, “আমি কারও ব্যক্তিগত বিরোধিতা করছি না। প্রকৃত একাডেমিক রেকর্ডের ভিত্তিতে স্বচ্ছ পুনর্মূল্যায়ন এবং পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে বিএমবি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল শোয়েব বলেন, “সানজিদা আক্তারকে প্রথম মনোনয়ন দিয়েছিল, আমি সেটি সম্পর্কে অবগত ছিলাম। এখন ইউজিসি পুনঃযাচাইয়ের জন্য কারও অভিযোগ থাকলে জানাতে বলেছেন। শুনেছি, সানজিদা আক্তার অভিযোগ জানিয়েছেন। এটা এখন ইউজিসি যাচাই করবে। আর সব কোর্সের নম্বর বিভাগের কাছে থাকে না। অনেকগুলো কোর্স নন-মেজর থাকে। সবগুলো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কাছে পাওয়া যেতে পারে।”
এ বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমেদ চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুব হোসাইন বলেন, “এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বিভাগ থেকে যেভাবে নম্বর দেয়, সেভাবে আমাদের দেয়।” তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি কোর্সের প্রাপ্ত নম্বর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে সংরক্ষিত থাকে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।
জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. ফারুক মিয়া বলেন, সানজিদার প্রাথমিক মনোনয়নের বিষয়ে তিনি অবগত নন। ওই সময় তিনি ডিনের দায়িত্বেও ছিলেন না।
তিনি বলেন, “তাদের দুজনের সিজিপিএ সমান। সব কোর্সের প্রকৃত নম্বরও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ছিল না। এ অবস্থায় কমিটির সবাই মিলে একটি স্ট্যান্ডার্ড ফলো করে একটি রেজাল্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে। সেখানে সেমিস্টারভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে দুই প্রার্থীর তুলনামূলক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ কার নাম ইউজিসিতে পাঠিয়েছে, সেটা আমি জানি না।”
উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম বলেন, “এই বিষয়ে আমার নিয়োগের আগেই একটা কমিটি করা হয়েছিল। আমি নিয়োগ পাওয়ার পর সানজিদা আক্তার আমার কাছে এসেছিলেন। আমি এটি পুনরায় যাচাইয়ের জন্য ডিনের কাছে ফরওয়ার্ড করেছি। উনারা আবার যাচাই করেছে ইউজিসির গাইডলাইন অনুযায়ী। সেটিই আমরা ইউজিসিতে পাঠিয়েছি।”
//ডিবিটেক/বিডিএনএস/এসএমপি/এমআইএসটি//





