এআই ও ক্লাউড অবকাঠামো প্রসারে ২ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহ করছে ওরাকল

এআই ও ক্লাউড অবকাঠামো প্রসারে ২ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহ করছে ওরাকল
৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৯:৫০  

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট ওরাকল তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ক্লাউড অবকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণ ব্যয় মেটাতে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার অর্থ সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন শেয়ার ও প্রাতিষ্ঠানিক বন্ড বিক্রির মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের তহবিল গঠন করা হবে।

শেয়ার ও বন্ডভিত্তিক বিশাল তহবিল
কোম্পানির প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক নথির তথ্য অনুযায়ী, ওরাকল সমপরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারের সাধারণ শেয়ার এবং ১০ বিলিয়ন ডলারের সিনিয়র নোট বা বন্ডের মাধ্যমে এই তহবিল বিভক্ত করেছে।

ওরাকল প্রতি শেয়ার ১১৬ ডলার নির্ধারিত মূল্যে মোট ৮ কোটি ৬২ লাখ শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পুঁজিবাজারে তাদের সাম্প্রতিক সমাপনী শেয়ার মূল্যের চেয়ে ১১.২ শতাংশ কম। অন্যদিকে বন্ড বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ পরিশোধের সময়সীমা ২০২৯ থেকে ২০৪৬ সালের দীর্ঘ মেয়াদে নির্ধারিত থাকবে।

শেয়ারবাজারে ধস ও ঋণের চাপ
বিশাল এই অর্থ সংগ্রহের ঘোষণা সামনে আসার পরই মার্কিন শেয়ারবাজারে ওরাকলের শেয়ারের দর এক ধাক্কায় ৮.৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে ১১৯.২২ ডলারে নেমে আসে। এর ফলে চলতি বছরজুড়েই কোম্পানিটি শেয়ারমূল্যে সব মিলিয়ে প্রায় ৩৯ শতাংশ দরপতনের মুখোমুখি হলো।

নথিপত্র অনুসারে, ২০২৬ অর্থবছরে ৬,৭৩৬ কোটি ডলার রাজস্ব অর্জনের বিপরীতে কোম্পানিটির নেট বন্ড ও অন্যান্য ঋণের পরিমাণ ১২,৫৩৪ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা এবং অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো ব্যয়ের কারণে মূলধন বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

লক্ষ্য ও এআই অবকাঠামো
ওরাকলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগৃহীত মূলধনের একটি অংশ ডাটা সেন্টার অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান দেনা পরিশোধ, লভ্যাংশ প্রদান এবং নিজস্ব শেয়ার পুনঃক্রয়ে (বাইব্যাক) ব্যয় করা হবে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে তাদের বার্ষিক রাজস্ব বাড়িয়ে সাড়ে ২২ হাজার কোটি (২২৫ বিলিয়ন) ডলারে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৭ ও ২০২৮ অর্থবছরে এআই-কেন্দ্রিক এই অবকাঠামোগত মূলধনি ব্যয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং ২০২৮ সালের শেষার্ধে প্রতিষ্ঠানের নিট নগদ প্রবাহ (ফ্রি ক্যাশ ফ্লো) ইতিবাচক ধারায় ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ওরাকল কর্তৃপক্ষ।

 ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: রয়টার্স