রাজধানীতে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬

রাজধানীতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’

  • শেরেবাংলা নগরের বিসিএফসিসিতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো
  • মেলার মূল প্রতিপাদ্য: ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’
  • বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইডকলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দেশের প্রথম সোলার এক্সপো

রাজধানীতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’
৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫১  

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ৩ নভেম্বর, ২০২৬, মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া এ আয়োজনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি ও পণ্য দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। সাশ্রয়ী মূল্যে সোলার প্রযুক্তির নানা প্যাকেজ ও আধুনিক সমাধান নিয়ে আয়োজিত গৃহস্থালি ব্যবহার, সেচ ও শিল্পকারখানার জন্য পরিবেশবান্ধব শক্তির সহজলভ্যতা দেখতে এক্সপোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

মেলার বিভিন্ন স্টলে সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও আধুনিক জ্বালানি প্রযুক্তি ঘুরে দেখছেন আগ্রহীরা। এক্সপোর বিভিন্ন স্টলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও দর্শনার্থীদের প্রযুক্তি ও পণ্যের ব্যবহার, সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন।

দুদিনের এ আয়োজনে সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি, অ্যাডভান্সড ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমসহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্প অর্থায়ন, সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজ করা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প উন্নয়নকারী ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এতে অংশ নিয়েছে। মেলার স্টলগুলোতে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস বাংলাদেশ লিমিটেড, আইটেল এনার্জি, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং টিএমএসএস-এর মতো আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থাগুলো সৌর প্রকল্প অর্থায়ন ও প্রযুক্তির প্রচার চালাচ্ছে।

পুরান ঢাকা থেকে মেলা দেখতে আসা ব্যবসায়ী আবির হাসান জানান, বাড়িতে ও অফিসে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা থেকে তারা মেলায় এসেছেন এবং এক ছাদের নিচে ইনভার্টার থেকে শুরু করে কমপ্লিট সোলার হোম সিস্টেমের সব তথ্য পাওয়া অত্যন্ত সুবিধাজনক হয়েছে। ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’ প্রত্যয়ে দেশের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এ আয়োজন করা হয়েছে। এক্সপোর অংশ হিসেবে চারটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, আবাসিক ও শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার, জ্বালানি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়) এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রথম এই সোলার এক্সপো আয়োজিত হয়েছে। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া আকিজ বশির ক্যাবলসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (করপোরেট সেলস) মো. মেহেদী হাসান জানান, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের সার্বিক চাহিদা ও সচেতনতা বেড়েছে এবং এই চাহিদা মেটাতে তারা মেলায় সোলার ক্যাবলসহ বিভিন্ন সংযোগ প্রযুক্তি তুলে ধরছেন।

সোলারিক-এর ডিরেক্টর ও সিটিও নাসির আহমেদ জানান, রুফটপ সোলার এখন শিল্পকারখানা ও আবাসিক ভবনে নতুন অর্থনৈতিক ও পরিবেশবান্ধব ধারা তৈরি করেছে।

 

সোলারিকের উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে (কেইপিজেড) ইয়াংওয়ান করপোরেশনের জন্য নির্মিত ৫২ মেগাওয়াটপিক ক্ষমতার রুফটপ সোলার প্রকল্প, যা বিশ্বের বৃহত্তম রুফটপ সোলার ইপিসি প্রকল্প বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি হা-মীম গ্রুপের জন্য ২৮ মেগাওয়াটপিক ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে। সোলারিকের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নাজনীন আক্তার আশা প্রকাশ করেন যে, শিল্পকারখানায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

টিএমএসএস-এর হেড অব সিআরএমডি শেখ আনোয়ার সাদাত এই আয়োজনকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করে জানান, আগামী দিনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও কম খরচে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে বাসাবাড়ি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের বিকল্প নেই। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং এ খাতে ব্যবসা করার আগ্রহ নিয়ে রংপুর থেকে মেলায় আসা দর্শনার্থী মাহবুবুর রহমান সোলার প্যানেল ও ইনভার্টারের সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সরকারের নীতিসহায়তা ও কর ছাড়ের বিষয়টি তুলে ধরতে মেলায় স্টল দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের প্রথম সচিব মো. তারেক জানান, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য ১ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক ছাড়া অন্যান্য সব শুল্ক-কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এ খাতে বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর ছাড় বা আয়কর সুবিধাও রয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করলে পরিশোধিত বিলের ৫ শতাংশ বছর শেষে আয়কর রিটার্নে রেয়াত হিসেবে দাবি করতে পারবেন।

ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মিরাজুল ইসলাম জানান, সোলার প্রযুক্তির মান ও উৎপাদন বেশ ভালো উন্নতি করছে, যা দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। গ্রিন ইউনিভার্সিটির তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মেলায় আসা শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান বলেন, শ্রেণিকক্ষের বাইরে সরাসরি সোলার প্যানেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা দেখার এই সুযোগ তাঁদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে দারুণ অভিজ্ঞতা দিচ্ছে।

এর আগে সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এক্সপোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহিরুখসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ এক্সপোর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে। /

//ডিবিটেক/এসএমসি/ডিএসই/এফওই//