সরকারি নিয়ন্ত্রণে টিকিটিং ফেরানোর প্রস্তাব

বিনামূল্যে রেল টিকিটিং অ্যাপ দিতে চান ইব্রাহিম

  • রেলের টিকিটিং ব্যবস্থা সরকারের হাতে দিতে অ্যাপ তৈরি করেছেন ডিআইআইটির শিক্ষার্থী
  • অনলাইন টিকিটে ২০ টাকা সার্ভিস চার্জের অংশ পায় বেসরকারি অপারেটর
  • ২০২৭ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষে নিজস্ব ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে রেলের

বিনামূল্যে রেল টিকিটিং অ্যাপ দিতে চান ইব্রাহিম
১ নভেম্বর, ২০২৬ ২০:২২  

বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় তৃতীয় পক্ষের নির্ভরতা, টিকিট কালোবাজারি এবং যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি টিকিটিং অ্যাপ সরকারকে বিনা মূল্যে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইব্রাহিম মোল্লা।

তবে অ্যাপটি সরাসরি গ্রহণের পরিবর্তে এর কার্যকারিতা যাচাই, ন্যায্য মূল্যায়ন এবং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সেবা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি নীতি পরামর্শক আবু নজম মোহাম্মদ তানভীর। তার মতে, দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীরা যাতে সর্বোত্তম সেবা পান, সেটিই হওয়া উচিত সরকারের প্রধান বিবেচনা।

ডিআইআইটির শিক্ষার্থী ইব্রাহিম মোল্লার দাবি, তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ টিকিটিং অ্যাপ তৈরি করেছেন। এটি সরকারকে বিনা মূল্যে হস্তান্তর করতে চান তিনি। রেলওয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপটি পরিবর্তন ও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অ্যাপ হস্তান্তরের পর কারিগরি সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণেও সহযোগিতা করতে আগ্রহী ইব্রাহিম।

প্রযুক্তি নীতি পরামর্শক আবু নজম মোহাম্মদ তানভীর ইব্রাহিমের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিষয়টি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। তবে সরকারকে বিনা মূল্যে অ্যাপটি গ্রহণ না করে একটি ‘রিকোয়েস্ট ফর কোয়ালিফিকেশন’ (আরএফকিউ) প্রক্রিয়ায় ন্যায্য মূল্যায়নের পর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সেবা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

তানভীরের মতে, রেলওয়ের প্রকিউরমেন্ট বা ক্রয়প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা অনুসরণ করে অ্যাপটির কার্যকারিতা ও সক্ষমতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। নতুন অ্যাপটি যাত্রীদের চাহিদা কতটা পূরণ করতে পারবে, এর চেয়ে ভালো সেবা দেওয়ার সক্ষমতা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা উদ্ভাবকের আছে কি না—সেটিও যাচাই করতে হবে। অ্যাপটির প্রস্তাবিত শর্ত বা সুবিধা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অন্যদের বঞ্চিত না করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। এ কারণে পুরো প্রক্রিয়া উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরামর্শ তাঁর।

ইব্রাহিমের অ্যাপে সেলফ-সার্ভিস বা স্বয়ংক্রিয় সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ ও বিক্রয়োত্তর কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন হবে বলে মনে করেন তানভীর। তার প্রশ্ন, ইব্রাহিম কেন অ্যাপটি বিনা মূল্যে দেবেন, যখন এর পরবর্তী সেবারও প্রয়োজন রয়েছে? তবে এ কাজ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার পক্ষে নন তিনি।

তানভীর বলেন, দেশের তরুণেরা প্রযুক্তি খাতে দারুণ কাজ করছেন। দেশের ভেতরেই সফটওয়্যার তৈরি ও উদ্ভাবনের সুযোগ তাঁদের দেওয়া উচিত। তাঁর প্রত্যাশা, প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তরুণ উদ্ভাবকেরা ভালো সেবা নিয়ে এগিয়ে আসবেন এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সর্বোত্তম সেবা পাবেন।

একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থায় সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের মতে, অ্যাপের কার্যকারিতা ও ব্যবহারবান্ধব বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য, ভ্রমণসংক্রান্ত রেকর্ড এবং লেনদেনের তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় তথ্যের নিয়ন্ত্রণ, অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানো এবং সাইবার আক্রমণ মোকাবিলার সক্ষমতাও মূল্যায়নের অংশ হওয়া প্রয়োজন।

তৃতীয় পক্ষের ব্যবস্থাপনায় টিকিটিং

বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং সেবা ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শোহোজ-সিনেসিস-ভিনসেন যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা।

বর্তমানে অনলাইনে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে যাত্রীকে ২০ টাকা সেবা মাশুল দিতে হয়। এর মধ্যে যৌথ উদ্যোগের কমিশন ৬ টাকা ৫০ পয়সা। অবশিষ্ট অর্থের মধ্যে রয়েছে ভ্যাট, ব্যাংক এবং বিকাশ-নগদের মতো পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের চার্জ। অন্যদিকে কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে কমিশন ২৫ পয়সা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রেলওয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ টিকিট বিক্রি করে, যার অর্ধেকের মতো অনলাইনে বিক্রি হয়। এ হিসাবে অনলাইন টিকিট থেকে বেসরকারি পরিচালনাকারীর বার্ষিক কমিশন ১২ থেকে ২৪ কোটি টাকা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিদিন এক লাখ অনলাইন টিকিটে প্রতিটি টিকিটে ৬ টাকা ৫০ পয়সা কমিশন ধরে বছরে হিসাব করলে অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ফলে ১২ থেকে ২৪ কোটি টাকার হিসাবের ভিত্তি ও সময়কাল স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

টিকিট কালোবাজারি ও তথ্য সুরক্ষার প্রশ্ন

অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় কালোবাজারি এবং যাত্রীদের ব্যক্তিগত ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে থাকার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে রেলওয়ের এক নিরীক্ষায় অভিযোগ ওঠে, টিকিট বিক্রি শুরুর আগেই বট বা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে টিকিট আটকে রেখে পরে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। নিরীক্ষায় প্রায় ১৬৯টি প্রশাসনিক অ্যাকাউন্টের কথা উল্লেখ করা হয়। ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে বিক্রি শুরুর কয়েক দিন আগেও টিকিট আটকে রাখার সুযোগ ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

অক্টোবরের ১১ তারিখের একটি অভ্যন্তরীণ নোটে যৌথ উদ্যোগের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। যৌথ উদ্যোগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছে। নিরীক্ষায় ওঠা অভিযোগগুলো তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের ভিত্তিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে রেলওয়ে প্রায় ১০ হাজার সন্দেহভাজন মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ব্লক করেছে। পাশাপাশি অননুমোদিত ওয়েবসাইট বন্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সহায়তা চেয়েছে।

নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ফেরার প্রস্তুতি

রেলওয়ে ও মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে শোহোজের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের পরিকল্পনা নেই। নিজস্ব তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ গঠনের জন্য ৪৯টি পদ অনুমোদনের কথাও জানা গেছে।

সাবেক রেলসচিব ড. হুমায়ুন কবিরের মতে, তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুললে টিকিটিং ব্যবস্থায় অনিয়ম ও কারসাজির ঝুঁকি কমানো এবং যাত্রীদের তথ্য সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো সম্ভব।

২০২৫ সালের অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী চুক্তি স্থগিত এবং এর শর্ত প্রকাশের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। অন্যদিকে ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন সেবাদাতা নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বারের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ

ইব্রাহিমের প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের রেলওয়ে টিকিটিং ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। তার উল্লেখ করা উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতের আইআরসিটিসি ও সিআরআইএস, পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট পোর্টাল ও বেসরকারি পেমেন্ট চ্যানেল, শ্রীলঙ্কার সরকারি পোর্টাল ও রাষ্ট্রীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি সহায়তা, জার্মানির ডয়েচে বান ও ডিবি নেভিগেটর, ফ্রান্সের এসএনসিএফ কানেক্ট, দক্ষিণ কোরিয়ার কোরেইল এবং চীনের ১২৩০৬ প্ল্যাটফর্ম।

অন্যদিকে নাইজেরিয়ায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে টিকিটিং সেবা পরিচালনার উদাহরণও তিনি উল্লেখ করেছেন। সেখানে টিকিট না পাওয়া এবং এজেন্টদের মাধ্যমে পুনর্বিক্রির অভিযোগ রয়েছে বলে তার বক্তব্য। এসব আন্তর্জাতিক উদাহরণের কাঠামো ও ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ইব্রাহিমের যুক্তি, সরকার নিজস্ব অ্যাপ ব্যবহার করলে বেসরকারি পরিচালনাকারীকে দেওয়া কমিশনের অর্থ সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে সেবামাশুল কমানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং যাত্রীদের তথ্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় রাখা সম্ভব হবে। তবে এসব সুবিধা বাস্তবে অর্জন করতে অ্যাপটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন পরিকল্পনা যাচাই করা জরুরি।

লোকসানের মধ্যে ব্যয় ও দক্ষতার প্রশ্ন

রেলওয়ের আর্থিক অবস্থাও টিকিটিং ব্যবস্থার ব্যয় ও দক্ষতা নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। সংসদে মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে রেলওয়ের পরিচালন লোকসান ছিল ১ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ২ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে লোকসান ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ হাজার ৭৩ কোটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা ছিল।

ইব্রাহিম জানিয়েছেন, অ্যাপের প্রস্তাব দিয়ে তিনি রেলমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের কাছে আবেদন পাঠিয়েছেন। তবে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া বা প্রস্তাবটির বিষয়ে কার্যকর আগ্রহ পাননি বলে দাবি তার।

এদিকে রেলের টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভারশীলতা কাটিয়ে নিজস্ব অ্যাপের আভাস দিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, যাত্রী সেবা নির্বঘ্ন করতে রেলসেবা অ্যাপের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখতে সফটওয়্যারে এমন কোনো অপশন আনা যায় কি না তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে সেটি নিজস্ব অ্যাপ না বিদ্যমান অ্যাপে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা তা স্পষ্ট করে বলেননি তিনি।

রেলের টিকিটিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সরকারি নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়প্রক্রিয়া এবং তথ্য সুরক্ষা—সবগুলো বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ইব্রাহিমের উদ্যোগ সেই আলোচনার একটি সম্ভাব্য পথ খুলে দিলেও অ্যাপটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই এবং স্বচ্ছ মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই এর উপযোগিতা নির্ধারিত হওয়া উচিত। 

//ডিবিটেক/আইএইচ/এসএমপি/এমআইএসটি//