ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট প্রকল্পের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
‘ই-পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’
- জাতীয় সংসদের ‘ই-পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত
- সংসদকে সম্পূর্ণ পেপারলেস ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
- কাজের পুনরাবৃত্তি রোধে তিন সদস্যের উপকমিটি গঠন করেছে সংসদীয় কমিটি
সংসদীয় কার্যক্রমকে আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছে জাতীয় সংসদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের নাম ‘ই-পার্লামেন্ট’ থেকে পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় প্রকল্পের কার্যক্রম যথাযথ বাস্তবায়ন, বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয় এবং কাজের পুনরাবৃত্তি পরিহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় সাউন্ড সিস্টেমসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে কাজের দ্বৈততা বা পুনরাবৃত্তি রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে তিন সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য সাঈদ আল নোমান, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিন্জকে নিয়ে গঠিত এই উপকমিটিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ই-পার্লামেন্টের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের প্রতিটি অধিবেশন, বিল বা আইন পাস, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি এবং ভোট দেওয়ার রেকর্ড সরাসরি অনলাইনে সম্পৃক্ত হবে বলে জানিয়েছেন ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)। প্রথম সভা শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ই-পার্লামেন্ট চালু হলে সাধারণ নাগরিকরা সহজেই জানতে পারবেন, তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদে কী ভূমিকা রাখছেন এবং কোন বিষয়ে কীভাবে ভোট দিচ্ছেন।
তিনি জানান, নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে কোনো খসড়া আইন পাসের আগে নাগরিকরা তাঁদের মতামত ও পরামর্শ দিতে পারবেন। পাশাপাশি ই-পিটিশন দাখিল এবং গ্রাম থেকেও যেকোনো অভিযোগ সরাসরি সংসদের কমিটির কাছে পাঠানোর সুযোগ থাকবে। পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংসদে কাগজের ব্যবহার বন্ধ করে পুরো প্রক্রিয়া পেপারলেস করার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক সংসদ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় কমিটির সদস্য হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিন্জ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
//ডিবিটেক/এসএমপিসি/আইসিডিই/এফওই//





