১ কোটি ৬৩ লাখ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য, দুটি বাড়িতে স্থাপিত সোলার সিস্টেম

ভালুকায় ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার কর্মসূচি চালু

  • ইডকল ও বিআইএফএফএলের উদ্যোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার কর্মসূচির উদ্বোধন
  • প্রথম পর্যায়ে দুটি বাড়িতে ২০ ও ৫ কিলোওয়াট পিক সক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন
  • আগামী গ্রীষ্মে ভালুকার বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ৫০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

ভালুকায় ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার কর্মসূচি চালু
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:১৩  

ময়মনসিংহের ভালুকায় আবাসিক পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার (ডিটিআরএস) কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) ও বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) বাস্তবায়নাধীন এ কর্মসূচির লক্ষ্য দেশের প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ পাকা ও আধা-পাকা বাড়ির ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা।

 ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার ভালুকা উপজেলা কমপ্লেক্সের হলরুমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ।

কর্মসূচির সূচনা হিসেবে দুটি বাড়িতে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ অতিথি ফখর উদ্দিন আহমেদের বাড়িতে ২০ কিলোওয়াট পিক এবং ভালুকার বাসিন্দা মো. সোহেল রানার বাড়িতে ৫ কিলোওয়াট পিক সক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে সিস্টেমগুলোর উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশের প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ পাকা ও আধা-পাকা ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী গ্রীষ্মে ভালুকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে বিদ্যুতের চাহিদার অন্তত ৫০ শতাংশ সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পূরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, ছাদে সোলার সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাসিক বিদ্যুৎ বিল আগে সাড়ে ৩০ হাজার টাকা থাকলেও সোলার স্থাপনের পর তা কমে ৭ হাজার ৪০০ টাকায় নেমে এসেছে।

সচিবের ভাষ্য, সাধারণ মানুষ ও কৃষকেরা নিজেদের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি আয় করতে পারবেন। তাই ছাদের প্রতিটি অংশ কাজে লাগিয়ে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আয়ের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার কর্মসূচি একটি সময়োপযোগী ও জনবান্ধব উদ্যোগ। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকটের আশঙ্কা থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে এ ধরনের টেকসই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইডকলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমাদের সকলের আলোচনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। বাড়ির ছাদকে রূপান্তর করতে হবে রুফটপ সোলারে।”

কর্মসূচি নিয়ে মূল উপস্থাপনা দেন ইডকলের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান মো. এনামুল করিম পাভেল। শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিআইএফএফএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. আনিছুজ্জামান বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানিই হোক আমাদের মূল শক্তির উৎস।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভালুকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্মসচিব মো. আশফাকুল আমিন মুকুট। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, ইডকল ও বিআইএফএফএলের কর্মকর্তারা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার কর্মসূচির মাধ্যমে আবাসিক পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুতের অবদান বাড়াতে কর্মসূচিটি কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন, অংশগ্রহণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগের ওপর।

//ডিবিটেক/ এআইপি/ এসএমই/এমভিএনও//