ওয়্যারহাউজের নেটওয়ার্কও ঝুঁকিতে
বারকোড স্ক্যানারেই সাইবার হামলার ঝুঁকি!
- স্ক্যানার ও বেস স্টেশনের মধ্যে অথেন্টিকেশনের ঘাটতি হামলার সুযোগ তৈরি করে
- ক্ষতিকর ইনপুটের মাধ্যমে সংযুক্ত কম্পিউটারে অননুমোদিত কমান্ড চালানো সম্ভব
- নেটওয়ার্ক সুরক্ষা, শক্তিশালী অথেন্টিকেশন ও নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরামর্শ ক্যাসপারস্কির
একটি স্ক্যানার থেকেই ঝুঁকিতে পুরো নেটওয়ার্ক
বিশ্বজুড়ে ই-কমার্সের প্রসারের সঙ্গে ওয়্যারহাউজ, খুচরা বিক্রয় ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। ২০১৯ সালের পর বিশ্বে ই-কমার্সের মাধ্যমে কেনাবেচার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৬ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাসপারস্কি সিকিউরিটি সার্ভিসেসের গবেষকেরা একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের বারকোড স্ক্যানারের মডেলে এমন একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত করেছেন, যা কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলা চালানো সম্ভব। এর প্রভাব পড়তে পারে ওয়্যারহাউজ, রিটেইলসহ বিভিন্ন খাতে।
সাধারণত হ্যান্ডহেল্ড বারকোড স্ক্যানার একটি বেস স্টেশনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। বেস স্টেশনটি আবার কোনো ওয়ার্কস্টেশন বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, স্ক্যানার ও বেস স্টেশনের মধ্যে যথাযথ অথেন্টিকেশন বা পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেই। ফলে ওয়্যারলেস সংযোগের আওতার মধ্যে থাকা কোনো ব্যক্তি এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে কি-স্ট্রোক ইনজেকশন করতে পারেন। অর্থাৎ, কিবোর্ডে চাপ দেওয়া বোতামের মতো ইনপুট পাঠিয়ে সংযুক্ত সিস্টেমে অননুমোদিত কার্যক্রম চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
যেভাবে হামলা চালানো সম্ভব
ধরা যাক, কোনো হামলাকারী সংশ্লিষ্ট বেস স্টেশনের ব্লুটুথ ঠিকানা জেনে নিয়েছেন। তিনি এরপর কিবোর্ডের ইনপুটের মতো দেখতে ক্ষতিকর পেলোড পাঠাতে পারেন। বেস স্টেশন সেই ইনপুট সংযুক্ত কম্পিউটারে পৌঁছে দিলে, দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন কমান্ড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। গবেষকদের প্রতিবেদনে একাধিক ডিভাইসে এ ধরনের পরিস্থিতি শনাক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
এ ধরনের হামলার মাধ্যমে আক্রমণকারী প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল সিস্টেম ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। শুধু বারকোড স্ক্যানার নয়, পোর্টেবল ডেটা টার্মিনাল ও থার্মাল প্রিন্টারের মতো অন্যান্য সংযুক্ত ডিভাইসেও একই ধরনের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী, এসব ডিভাইসকে প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করে ওয়্যারহাউজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা করা সম্ভব।
সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইসই সম্ভাব্য প্রবেশপথ
ক্যাসপারস্কির ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিসেসের প্রধান সের্গেই সিদোরভ (Sergey Sidorov) বলেন, “আধুনিক রিটেইল ও লজিস্টিকস এখন পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে গেছে। পুরো প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে কর্মীর হাতের প্রতিটি ডিভাইস একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। তাই যেকোনো ধরনের প্রযুক্তিই সাইবার হামলার প্রবেশপথ হয়ে উঠতে পারে, যা পুরো ব্যবস্থাকে অচল করার ক্ষমতা রাখে। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, এই ঝুঁকি তৈরিতে কেবল একটি বারকোড স্ক্যানারই যথেষ্ট। তাই পুরো ওয়্যারহাউজ খাত ও রিটেইল শিল্পের প্রতিটি স্তরেই সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।”
ঝুঁকি কমাতে করণীয়
এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে ক্যাসপারস্কি নেটওয়ার্কে যুক্ত করার আগে প্রতিটি ডিভাইস যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা হালনাগাদ রাখা, ব্যবহার না করা ব্লুটুথ ইন্টারফেস বন্ধ রাখা এবং শক্তিশালী অথেন্টিকেশন চালু করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ক্যাসপারস্কির সুপারিশের মধ্যে আরও রয়েছে—নেটওয়ার্ক সেগমেন্টেশন বা নেটওয়ার্ককে পৃথক অংশে ভাগ করে নিয়ন্ত্রণ করা, সম্ভাব্য প্রবেশপথগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের অনুমতি প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত রাখা। এসব ব্যবস্থা অননুমোদিত প্রবেশের সুযোগ কমাতে এবং কোনো একটি ডিভাইসের দুর্বলতা থেকে পুরো নেটওয়ার্কে ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সহায়তা করতে পারে।
ক্যাসপারস্কি আইসিএসের সিকিউরিটি অ্যাসেসমেন্ট সেবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কন্ট্রোল সিস্টেম, অপারেশনাল টেকনোলজি এবং নেটওয়ার্কে যুক্ত ডিভাইসের দুর্বলতা শনাক্ত করতে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এই মূল্যায়ন চলমান অবস্থায় ডিভাইসের অন্যান্য কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটিয়েই পরিচালনা করা হয়।
অন্যদিকে, ক্যাসপারস্কির ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাইবার সিকিউরিটি সেবা লজিস্টিকস কোম্পানিসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোর দৃশ্যমানতা ও নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করে। এর লক্ষ্য হলো, প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না করে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও সুরক্ষিত রাখা।
//ডিবিটেক/সিএসএস/এসএমপি/এমআইএসটি//





