নারিতায় ৫ ঘণ্টা আটকে থাকার ঘটনায় ৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটি: কারণ অনুসন্ধানে বিমানের ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি

  • চিফ (প্ল্যানিং অ্যান্ড সিডিউলিং)-কে সভাপতি করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন
  • ​নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিজি ৩৭৭ ফ্লাইটে উড্ডয়নের ঠিক আগে ধরা পড়ে যান্ত্রিক ত্রুটি
  • ​দায়িত্বে অবহেলা, নিরাপত্তা পর্যালোচনা ও ভাবমূর্তির ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ দফা কার্যপরিধি নির্ধারণ

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটি: কারণ অনুসন্ধানে বিমানের ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৪  

জাপানের টোকিওস্থ নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​ ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার  বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) এয়ার কমডোর নিয়ামুল কবীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি অফিস আদেশে এই তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

​অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিমানের চিফ (প্ল্যানিং অ্যান্ড সিডিউলিং)-কে কমিটির সভাপতি এবং ব্যবস্থাপক (আইনবিষয়ক)-কে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন বিমানের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রডাকশন) এবং ডেপুটি চিফ (ফ্লাইট সেফটি)। তবে সুষ্ঠু ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে কমিটি প্রয়োজনবোধে বিমানের যেকোনো প্রযুক্তিবিদ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করতে পারবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

​এর আগে চার দিনের সরকারি সফর শেষে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নারিতা থেকে ঢাকা রুটে পরিচালিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘ফ্লাইট বিজি ৩৭৭’-এ উড্ডয়নের ঠিক পূর্বমুহূর্তে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে তা প্রায় ৫ ঘণ্টা বিলম্বিত হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলসহ সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় নারিতা বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জে অবস্থান করতে হয়। পরে প্রকৌশলীরা ত্রুটি সারিয়ে উড্ডয়ন উপযোগিতা নিশ্চিত করলে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

​এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গঠিত কমিটিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বরাবর আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​কমিটির ৫ দফা কার্যপরিধি:

১. নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের আগে বোয়িং উড়োজাহাজটিতে সংঘটিত কারিগরি ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ ও যান্ত্রিক ধরন উদ্ঘাটন করা।

২. ত্রুটি শনাক্তকরণ, দ্রুততম সময়ে তা নিরসন এবং পরবর্তী সময়ে উড়োজাহাজের সামগ্রিক উড্ডয়ন উপযোগিতা (Airworthiness) নিশ্চিতকরণে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিস্তারিত পর্যালোচনা করা।

৩. ফ্লাইটের অপ্রত্যাশিত বিলম্ব, অতিরিক্ত গ্রাউন্ড ও পরিচালনা ব্যয়, যাত্রীদের ভোগান্তি এবং রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক ভাবমূর্তির ওপর পড়া সামগ্রিক প্রভাব নিরূপণ করা।

৪. উক্ত ঘটনায় কোনো প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট ক্রু সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা, সমন্বয়হীনতা কিংবা প্রক্রিয়াগত (SOP) ত্রুটি ছিল কি না, তা যাচাই করে সুস্পষ্টভাবে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা।

৫. ভিভিআইপি ও বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ভবিষ্যতে এ জাতীয় বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রতিরোধমূলক প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা প্রণয়ন করা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।

//ডিবিটেক/বিডিএন/এসএমই/এমভিএনও//