বিদায় অ্যাপল ‘ম্যাক প্রো’
অ্যাপল তাদের বহুল পরিচিত ডেস্কটপ কম্পিউটার ‘ম্যাক প্রো’-এর উৎপাদন বন্ধ করেছে। ২০০৬ সালে প্রথম বাজারে আসা এই কম্পিউটারটি দুই দশক ধরে অ্যাপলের ফ্ল্যাগশিপ ডেস্কটপ মডেল হিসেবে যাত্রা করেছিল। সম্প্রতি অ্যাপলের ওয়েবসাইট থেকে পণ্যটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খবর জিএসএম এরিনা।
ম্যাক প্রো প্রথম বাজারে আসে ২০০৬ সালে, যা তখনকার পাওয়ার ম্যাক জি৫-এর উত্তরসূরি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর মডুলার ডিজাইন ছিল প্রধান আকর্ষণ—ব্যবহারকারীরা সিপিইউ, মেমোরি, অপটিক্যাল ড্রাইভ ও পিসিআই এক্সপ্যানশন কার্ড পরিবর্তন করতে পারতেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত এই ফরম্যাট অপরিবর্তিত ছিল।
২০১৩ সালে অ্যাপল ম্যাক প্রো-র বিতর্কিত পুনঃডিজাইন আনে, যা পরে ‘ট্র্যাশক্যান ম্যাক’ নামে পরিচিতি পায়। এই মডেলটিতে আগের টাওয়ারের মতো মডুলারিটির বদলে কম্প্যাক্ট কিন্তু বেশিরভাগ উপাদান একীভূত রাখা হয়েছিল। শুধু মেমোরি ও স্টোরেজ আপগ্রেড করা যেত। পরে জানা যায়, শীতলীকরণের সীমাবদ্ধতায় এই ডিজাইন টিকে থাকতে পারেনি।
২০১৯ সালে তৃতীয় ও শেষ বড় নকশায় ফিরে আসে মডুলারিটির চিরায়ত ধারা। সিপিইউ ছাড়া সব উপাদান বদলানোর সুযোগ ছিল। এটি ছিল ইন্টেল সিপিইউ-র শেষ ম্যাক প্রো, কারণ এরপর অ্যাপল তাদের নিজস্ব এম-সিরিজ চিপে রূপান্তর শুরু করে। ২০২৩ সালে এম২ আলট্রা চিপে আপডেট আসে, যা এই লাইনের শেষ সংস্করণ। এম-সিরিজ চিপে আসার পর পিসিআই স্লটে সংযোগের সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়, যা এনথুসিয়াস্টদের কাছে পণ্যটির আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
এরই মধ্যে অ্যাপলের সবচেয়ে শক্তিশালী ডেস্কটপের স্থান দখল করে নিয়েছে ম্যাক স্টুডিও। ব্লুমবার্গের মার্ক গুরম্যান জানিয়েছেন, অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরেই ম্যাক প্রো বন্ধের পরিকল্পনা করছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, ম্যাক প্রো-র বড় খোলা কাঠামোতে আর কিছু ভরার উপায় ছিল না। আধুনিক ম্যাকের ধারণার সঙ্গে মডুলারিটিও সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তাই অ্যাপলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিকই মনে করছেন তারা। তবে কম্পিউটার জগতে ম্যাক প্রো চিরস্মরণীয় থাকবে তার নিরবধি নকশা ও পেশাদার কর্মক্ষমতার জন্য।
ডিবিটেক/বিএমটি



