কৌশলগত খাতে ৫১ শতাংশ দেশীয় মালিকানা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের দাবি

কৌশলগত খাতে ৫১ শতাংশ দেশীয় মালিকানা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের দাবি
১৯ মে, ২০২৬ ১৫:২৬  
১৯ মে, ২০২৬ ১৯:৩৬  

দেশের সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি খাতের মতো কৌশলগত অবকাঠামোয় বিদেশি আধিপত্য বাড়ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, এসব খাতে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫১ শতাংশ দেশীয় মালিকানা এবং বাধ্যতামূলক প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে।

১৯ মে, মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ আয়োজিত নীতিনির্ধারণী গোলটেবিল আলোচনায় এ দাবি জানানো হয়। ‘কৌশলগত সম্পদে দেশীয় বিনিয়োগের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এই আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাকিব আনোয়ার।

প্রবন্ধে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের নামে দেশীয় অর্থ ও ঋণের ব্যবহার হচ্ছে। পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটরের ১৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার দেশীয় ও আঞ্চলিক ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ থেকে এসেছে।

সাকিব আনোয়ার বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তারা সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে সক্ষম। উদাহরণ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সিডিডিএলের উৎপাদনশীলতা এবং এমজিএইচ গ্রুপের রাজস্ব প্রস্তাবের বিষয় তুলে ধরা হয়।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়াই লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনালের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি মাত্র ১৩ দিনে সম্পন্ন হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এ ধরনের প্রক্রিয়ায় আরও বেশি সময় লাগার কথা।

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবা পেতে বিদেশি কোম্পানিগুলো উচ্চ পর্যায়ে লবিং করছে। কিন্তু দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকারের কার্যকর সংলাপ নেই।

তারা বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধিতা নয়, বরং প্রযুক্তি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। এ জন্য যৌথ উদ্যোগে দেশীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান বক্তারা।

আলোচনায় অংশ নেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ক্যাব সভাপতি আবু আলম শহীদ খান, সাবেক সচিব শফিক জামান, বিসিকের সাবেক পরিচালক আবু তাহের খান, ঢাকা স্টিম উপদেষ্টা সম্পাদক হাসান মামুন, ঢাকা স্টিমের প্রধান নির্বাহী কর্নেল (অব) মো. সোহেল রানা, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ কো-অর্ডিনেটরসবুজ এইচ চৌধুরী, এফসিএ, এটিজেএফবি সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব ও সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ইকতান্দার হোসাইন হাওলাদার।

বক্তারা ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, কৌশলগত খাতে দেশীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানার নীতি বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করে না। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করে।

শেষে কৌশলগত অবকাঠামোয় বিনিয়োগে উন্মুক্ত দরপত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সমান সুযোগ নিশ্চিত এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বন্দর নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের সুপারিশ করা হয়।
ডিবিটেক/এসএসসি/এমইউএম