দেশে শীর্ষ রোগ উচ্চ রক্তচাপ, বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের তাগিদ
দেশে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বাজেট বরাদ্দ ও ওষুধ সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, টেকসই অর্থায়নের অভাবে সবার জন্য বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের সরকারি সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না, ফলে দেশে উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ বাড়ছে।
১৩ মে, বুধবার রাজধানীর বিএমএ ভবনে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটের সহযোগিতায়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫’ অনুযায়ী দেশে শীর্ষ ১০ রোগের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা–এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশে হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় মারা যাওয়া ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষের মধ্যে ৫২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল উচ্চ রক্তচাপ।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ ঘটে অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ। তৃণমূল পর্যায়ে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সব কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক বলেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না, বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।
কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খোরশেদ আলম বলেন, সরকার তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কাজ করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, সবার জন্য বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগ ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ–এর অধ্যাপক ডা. মলয় কান্তি মৃধা, চ্যানেল ২৪–এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুলসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণাভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং টেকসই অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডিবিটেক/এসআই/ইকে



