ধানের দেশে ভুট্টার হাসি
গবেষণা ও কৃষি প্রযুক্তির কল্যাণে ধানের লোকসান ভুলে ভুট্টার সোনালি হাসিতে সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছেন কুড়িগ্রামের কৃষকরা। জেলার রৌমারীর যে জমিতে একসময় ফসল ফলিয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটত না, আজ সেই জমিই হয়ে উঠেছে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতির আশার আলো। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন কেবল সোনালি দানার হাইব্রিড ভুট্টার সমারোহ। ধানের তুলনায় কম ঝুঁকি এবং অধিক লাভের কারণে এই অঞ্চলের কৃষকদের কাছে এখন ধান চাষের প্রধান বিকল্প হয়ে উঠছে বিএডিসি হাইব্রিড-৩ (বি-৩৩৫৫) জাতের ভুট্টা।
সরেজমিনে রৌমারীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন ভুট্টা ক্ষেতের পরিচর্যায়। কয়েক বছর আগেও যারা ধানের ফলন বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা ছিলেন, আজ তারা হাইব্রিড ভুট্টার ফলনে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছেন। বৃহস্পতিবার উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বালুরগ্রাম এলাকায় বিএডিসির উদ্যোগে আয়োজিত এক ‘ক্রপ কাটিং ও মাঠ দিবস’ অনুষ্ঠানে এই সাফল্যের চিত্র ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বালুরগ্রাম এলাকার কৃষক আব্দুল মতিন জানান, মাত্র এক বিঘা জমিতে ছয় প্যাকেট বীজ চাষ করে তিনি অভাবনীয়ভাবে ৮৫ মণ ভুট্টা পেয়েছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ভুট্টা ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তার মতে, এই জাতের ভুট্টার দানা যেমন পুষ্ট, তেমনি ঝড়-বৃষ্টিতেও গাছ হেলে পড়ে না। আরেক কৃষক শাহিন আলমও একই জমিতে প্রায় ৯০ মণের মতো ফলন পেয়ে অত্যন্ত খুশি। স্থানীয় কৃষকদের মতে, কম সময়ে বেশি ফলন এবং ভালো বাজারমূল্য থাকায় দিন দিন ভুট্টার আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ছে।
১৪ মে, বৃহস্পতিবার মাঠ দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক হুমায়ুন কবীর বলেন, বিএডিসি হাইব্রিড-৩ জাতের এই ভুট্টা প্রতিকূল আবহাওয়াতেও টিকে থাকতে সক্ষম এবং রোগ প্রতিরোধী। এটি চাষ করে কৃষকরা একদিকে যেমন বেশি ফলন পাচ্ছেন, অন্যদিকে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন। উচ্চ ফলনশীল এই বীজ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
জামালপুর বিএডিসির উপপরিচালক প্রিয়তোষ রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার নাথ, রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়াসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, চরাঞ্চল ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে ধানের চেয়ে ভুট্টা চাষ অনেক বেশি সাশ্রয়ী। সেচ ও সারের খরচ কম হওয়ায় এবং বাজারদর স্থিতিশীল থাকায় রৌমারী ও রাজীবপুর এলাকার কৃষকদের কাছে ভুট্টা এখন এক নিরাপদ ও সচ্ছল আগামীর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিবিটেক/এএস/এমআই



