হ্যাকিং ঠেকাতে ইন্টারনেট বিহীন ক্লোজড নেটওয়ার্কে ফলাফল প্রকাশ করবে ইসি

হ্যাকিং ঠেকাতে ইন্টারনেট বিহীন  ক্লোজড নেটওয়ার্কে ফলাফল প্রকাশ করবে ইসি
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০১:১০  

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। প্রথমবারের মতো ভোট পরিচালনা কার্যক্রমে বডিওর্ন ক্যামেরাসহ নানা প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ভোটের ফলাফল প্রকাশে  ডিজিটাল মনিটরিং স্ক্রিন ব্যবহার করা হরেও গড়ে তোলা হচ্ছে সম্পূর্ণ ইন্টারনেটবিহীন একটি ‘ক্লোজড নেটওয়ার্ক’। 

এ জন্য নির্বাচন ভবনের খোলা চত্বরে বসানো হচ্ছে তিনটি বড় ডিজিটাল মনিটরিং স্ক্রিন। দর্শনার্থী ও অতিথিদের সুবিধার্থে ভবনের ডান ও বাম পাশে থাকছে আরো দুটি বিশাল স্ক্রিন। গণমাধ্যমের জন্য থাকছে ৮৭টি বুথ। ল্যানপ্রযুক্তির মাধ্যমে গড়ে তোলা এই  ক্লোজড নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হচ্ছে এগুলোকে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রকাশ, রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট তথ্য ডেটা সেন্টারে পৌঁছে যাবে। নির্বাচন কমিশন কোনো আসনের ১০০টি কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত পাঁচটি কেন্দ্রের ফলাফল হাতে পেলেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে মোট ফলাফল ও গণভোটের ফল আলাদাভাবে দেখানোর ব্যবস্থা থাকবে।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ, যুগ্ম সচিব ডিএম আতিকুর রহমান এবং পরিচালক সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্রীয় টিম গঠন করা হয়েছে।

ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া বিষয়ে বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানিয়েছেন, এবার তিন স্তরের যাচাইয়ের পর ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ফলাফল কোনোভাবেই যেন হ্যাক করা না যায় সেজন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে না। ইসির নিজস্ব সুরক্ষিত ভিপিএন নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই ফলাফল আদান-প্রদান হবে। 

জানাগেছে, গত নির্বাচনে ব্যবহৃত ‘কপোত’ অ্যাপের পরিবর্তে এবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বার্তা শিটের মাধ্যমে ইএমএস (ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) সফটওয়্যার ব্যবহার করে আংশিক বা পূর্ণ ফলাফল পাঠানো হবে। ইএমএসের একটি বিশেষ মডিউল ‘আরএমএস’ (রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম)। এটি একটি ডেটা ট্রান্সফারিং সিস্টেম, যার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের ফলাফল দ্রুত প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

তবে নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও অভ্যন্তরীণ সিস্টেমের স্বচ্ছতা, অডিটযোগ্যতা ও মানবীয় ত্রুটি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যেতে পারে।

অবশ্য ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তিগতভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিরাপদ। এটি ইন্টারনেট বা অনলাইনে উন্মুক্ত নয় এবং একটি ক্লোজড লুপ ভিপিএন সিস্টেমে পরিচালিত হওয়ায় বাইরে থেকে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। কমিশনের দাবি, এতে ফলাফলের নির্ভুলতা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত থাকবে।

ডিবিটেক/এনএ/এসএডি