অত্যাধুনিক আকাশ প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশ
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার এবং রাডার ব্যবস্থার উদ্বোধনের মাধ্যমে ডিজিটাল এভিয়েশন যুগে প্রবেশ করছে দেশ। দীর্ঘ ৩৫ বছরের পুরনো অ্যানালগ ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে ২০ এপ্রিল, সোমবার থেকে বাংলাদেশ আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় শতভাগ অটোমেশনে যাচ্ছে হযরত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
নতুন এই সিস্টেমে যুক্ত হয়েছে ফ্রান্সের বিশ্বখ্যাত থ্যালেস (Thales)**কোম্পানির তৈরি প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে বঙ্গোপসাগরসহ দেশের শতভাগ আকাশসীমা এখন রাডারের আওতায় আসছে।
পুরোনো ও সীমিত ক্ষমতার রাডার ব্যবস্থাকে বিদায় জানিয়ে প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটির মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের আধুনিক এভিয়েশন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হলো। সোমবার ২০ এপ্রিল বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রীর হাত ধরে এই অত্যাধুনিক সিস্টেমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে, যা বাংলাদেশের আকাশপথকে শতভাগ নিরাপদ ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করে তুলবে।
প্রযুক্তিগতভাবে এই নতুন ব্যবস্থাটি অত্যন্ত শক্তিশালী। ফ্রান্সের বিখ্যাত থ্যালেস কোম্পানির তৈরি এই সিস্টেমে রয়েছে এস-ব্যান্ড প্রাইমারি রাডার এবং মোড-এস সেকেন্ডারি সার্ভেল্যান্স রাডার। এর ফলে এখন থেকে বঙ্গোপসাগরের গভীর অঞ্চলসহ বাংলাদেশের পুরো আকাশসীমা নজরদারির আওতায় আসবে।
আগে যেখানে রাডার কভারেজের অভাবে অনেক এলাকা ‘ব্লাইন্ড স্পট’ হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন সেখানে প্রতিটি উড়োজাহাজের অবস্থান, গতিপথ এবং উচ্চতা নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এটিসি টাওয়ারে দায়িত্বরত কন্ট্রোলাররা এখন থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য পাবেন, যা উড্ডয়ন ও অবতরণ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করবে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ দিতে হয়। আগে রাডার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক বিদেশি ফ্লাইট নজরদারির বাইরে থাকতো, ফলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হতো। এখন পুরো আকাশসীমা ডিজিটাল কভারেজের আওতায় আসায় কোনো ফ্লাইটই নজরদারির বাইরে থাকবে না, যা দেশের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এই রুট ব্যবহার করে। এই ক্রমবর্ধমান এয়ার ট্রাফিক সামাল দিতে অটোমেশন সিস্টেমটি ছিল সময়ের দাবি। এটি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং প্রতিবেশী দেশ ভারত (কলকাতা) এবং মিয়ানমারের (ইয়াঙ্গুন) সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসের নিরবচ্ছিন্ন ডেটা আদান-প্রদান বা এআইডিসি (AIDC) বাস্তবায়নের পথ সুগম করবে। ৫৪ বছরের ম্যানুয়াল ও সেমি-অটোমেটেড যুগের অবসান ঘটিয়ে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম স্মার্ট এভিয়েশন হাবে পরিণত করার পথে এক বিশাল ধাপ।
ডিবিটেক/এসএইচ/ইকে







