নজরদারি প্রযুক্তি পর্যালোচনা বিষয়ক প্রতিবেদন হস্তান্তর

নজরদারি প্রযুক্তি পর্যালোচনা বিষয়ক প্রতিবেদন হস্তান্তর
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:২১  

তথ্যভিত্তিক, তুলনামূলক ও নীতিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে বর্তমানে প্রচলিত অসম্পূর্ণ ও স্বচ্ছতাহীন কাঠামো থেকে বেরিয়ে দেশে ব্যবহৃত  নজরদারি প্রযুক্তির নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি।  এনটিএমসি বিলুপ্তি এবং টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ এর ৯৭, ৯৭ক, ৯৭খ, ৯৭গ সংস্কারের বিস্তারিত রোডম্যাপ রয়েছে এই প্রতিবেদনে।

 ১১ ফেব্রুয়ারি,  বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা নিশ্চিত করছেন তার উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। প্রতিবেদনটি জমাদেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারি ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশের কিছু গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, গুম ও বেআইনি আটক সংক্রান্ত ঘটনা এবং নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ দমন ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় সাফল্য- এই দুই বাস্তবতার সম্মিলিত প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবেদন প্রণীত হয়েছে। বিদ্যমান আইন, নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার আলোকে নজরদারি ব্যবস্থার কাঠামোগত ঝুঁকি, শাসনগত ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। 

জানাগেছে, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির জমা দেওয়া এ প্রতিবেদনে রাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতা এবং এর সীমাবদ্ধতাসমূহের আইনি এবং কারিগরি দিকসমূহের পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়াও এতে জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি প্রাণরক্ষা, জননিরাপত্তা ও বিচারিক প্রয়োজনের পাশাপাশি নাগরিকের গোপনীয়তার সাংবিধানিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে ৮টি মানদণ্ডের সাপেক্ষে ৮টি সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়।

 এতে ‘দ্বিস্তরীয় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা (টু-লেয়ার ট্রান্সপারেন্সি মডেল)’ কাঠামো সম্বলিত আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা একটি বৈশ্বিক মানসম্পন্ন রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) দিকনির্দেশনা, অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা ও চর্চা, মানবাধিকার মানদণ্ড এবং বাংলাদেশের বাস্তব প্রশাসনিক সক্ষমতা- এই সবকিছুর আলোকে একটি বাস্তবসম্মত সংস্কারপথ উপস্থাপন করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।  

এই কমিটির প্রস্তাবনার মধ্যে ছিল এনটিএমসি বিলুপ্তি এবং টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ এর ৯৭, ৯৭ক, ৯৭খ, ৯৭গ সংস্কারের বিস্তারিত রোডম্যাপ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এরই মধ্যে এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ আইনের সংশোধিত ভার্সন গেজেটভুক্ত করেছে। এছাড়াও এই কমিটি অধিকতর রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও অনুসন্ধানের প্রস্তাব করেছে। 

এই প্রতিবেদন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারকে পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরস্পরসম্পূরক হিসেবে দেখার একটি নীতিগত কাঠামো নির্মাণের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

ডিবিটেক/এসএইচ/আইএইচ