বিটিআরসি'র টেলিকম উদ্ভাবনী মেলায় সেরা রোবো লাইফ

বিটিআরসি'র টেলিকম উদ্ভাবনী মেলায় সেরা রোবো লাইফ
২৩ জুলাই, ২০২৫ ১৮:৪৮  
২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৯:৫০  

পঙ্গুব্যক্তির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করতে ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (EMG) সংকেত ব্যবহার করে তৈরি কৃত্রিম হাত উদ্ভাবন করে ‘টেলিকম ও ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০২৫' এ প্রথম হয়েছে রোবোলাইফ টেকনোলজিস। তিন লাখ টাকার চেক পেয়েছে লাভলু বড়ুয়ার দল।

এছাড়া বিদ্যমান বৈদ্যুতিক পোলকে টেলিকম টাওয়ার হিসেবে ব্যবহার ও বাঁশের তৈরি পরিবেশবান্ধব টাওয়ার নির্মাণ প্রদর্শনের মাধ্যমে তৃতীয় এবং লোডশেডিংয়ের সময় টাওয়ার বা বিটিএসে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য উবার পাওয়ার কার তৈরি করে দ্বিতীয় ও পঞ্চম হয়েছে ইডটকো বাংলাদেশ।

স্টার্টআপদের প্রয়োজনীয় রিসোর্স, প্রশিক্ষণ, এবং বিনিয়োগকারীদের সাথে সংযোগ স্থাপনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তৃতীয় হয়েছে গ্রামীণ ফোনের জিপি এক্সেলেরেটর। ক্ষুদ্র ও কুটির উদ্যোক্তাদের জন্য কয়েক ক্লিকে ই-কমার্স ওয়েবসাইট প্রস্তুত করে চতুর্থ হয়েছে ইবিতানস-eBitans।

২৩ জুলাই, বুধবার রাজধানীর আগারগওঁয়ে বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী প্রদর্শনী শেষে ৩২টি উদ্যোগের মধ্যে এই সেরা পাঁচ প্রকল্পকে পুরস্কৃত করা হয়।

বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের চেক তুলে দেন আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। এসময় টেলিকম সচবি (রুটিন দায়িত্ব) জহিরুল ইসলাম, বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী ও কমিশনার মাহমুদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মেলায় দ্বিতীয় উদ্ভাবনী প্রকল্প বিজয়ীকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ১ লাখ টাকা, চতুর্থ ৭৫ হাজার টাকা এবং পঞ্চম উদ্ভাবনকে ৫০ হাজার টাকার ডামি চেক দেয়া হয়।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান শুরুতে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্মরণে এক মিনিটি নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যেসব সমস্যা উদ্ভূত হয় সেই আলোকে নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণাকে বাণিজ্যিকীকরণ করা হলে তা দেশ ও জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি বরাদ্দ যাতে ফলপ্রসু কাজে ব্যয় হয় সে লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের তিনটা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, টেলিকম ও ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় অংশগ্রহণকারীগণ উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে এগিয়ে আসলে আইসিটি বিভাগ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব জহিরুল ইসলাম টেলিকম ও ডিজিটাল মেলায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আগামীর সমাজ হবে বুদ্ধিভিত্তিক সমাজ যেখানে আমাদের মেধা ও সৃজনশীল আইডিয়া ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে পারবো।

তরুণ সমাজ বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্ভাবনী ধারণা কাজে লাগাতে পারলে দেশের বেকারত্ব ও দারিদ্র্যতা দূর করা যাবে। ডিজিটাল উদ্ভাবন দেশের টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল খাতের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) বলেন, গত আড়াই দশকে টেলিযোগাযোগ খাতে যে উন্নয়ন হয়েছে তা ছিল মূলত কানেক্টিভিটি। আমাদের মোবাইল ও ইন্টারনেট গ্রাহক ১৮ কোটি ও ১৩ কোটি। বর্তমানে ডাটাকেন্দ্রিক যুগ। ডাটার ব্যবহার বাড়লেও তা ফলপ্রসু কাজে ব্যয় হচ্ছে না। ইনোভেশন বলতে কেবল উচ্চ প্রযুক্তি হওয়া নয়, বরং সেই প্রযুক্তি কিভাবে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কল্যানে কাজে লাগানো যায় সেটা মূখ্য হওয়া উচিত। টেলিকম ও আইসিটি বিভাগ একসাথে কাজ করলে এই খাত আরো গতিশীল হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ৭৬টি আইডিয়ার মধ্য থেকে ৩২টি আইডিয়া বাছাই করা হয়েছে। নতুন আইডিয়া দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ খাতকে এগিয়ে নিবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিটিআরসিতে ইনোভেশন ল্যাব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, যা নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তা কাজে লাগানো যাবে। এছাড়াও অংশগ্রহণাকীরদের বিটিআরসি তার রেগুলেটরি কার্যক্ষমতার আওতায় সর্বাত্বক সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বিটিআরসির ভাইস-চেয়ারম্যান মোঃ আবু বকর ছিদ্দিকসহ বিটিআরসির উধ্বর্তন কর্মকর্তাবৃন্দ, মেলা অংশগ্রহণকারী ও বিভিন্ন টেলিযোগযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্ধ উপস্থিত ছিলেন।