বিটিআরসিতে ডিপিসি ঝড়: বৈঠকের আগে আইনি নোটিশে নতুন উত্তেজনা

৮ ফেব্রুয়ারির বিটিআরসি কমিশন বৈঠকেই নজর সবার

৮ ফেব্রুয়ারির বিটিআরসি কমিশন বৈঠকেই নজর সবার
৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:০১  

সিদ্ধান্তহীন দুইটি বৈঠকের পর ভোটের তিন দিন আগে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আবারও কমিশন বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পদোন্নতি নিয়ে চলমান নানা নাটকীয়তার মধ্যে কমিশনের ৩০৪তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ৩০৪ নম্বর কক্ষে।

বৈঠকে ৩০৩তম সভার কার্যক্রম পর্যালোচনা, নতুন লাইসেন্স গাইডলাইন বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে নতুন লাইসেন্স কাঠামো অনুমোদন পেতে পারে। এর ফলে আগের অনেক সেবা স্তর কমিয়ে চারটি ক্যাটাগরিতে একীভূত করা হবে। একইসঙ্গে বিদ্যমান আইসিএক্স, আইজিডব্লিউ, আইআইজি ও নিক্স লাইসেন্স বাতিল করে সেগুলোকে নতুন করে আইসিএসপি, এনআইসিএসপি, সিএমএসপি ও এফটিএসপি কাঠামোয় বিন্যস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া বিটিআরসিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির বিষয়টিও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি হিসেবে থাকছে। সভায় ৯ম ও তদূর্ধ্ব পদ এবং ১০ম গ্রেডের নিচের পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত সুপারিশসহ কার্যবিবরণী অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এদিকে বৈঠকের আগেই গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসি চেয়ারম্যান, প্রশাসন শাখার মহাপরিচালক, টেলিকম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবের কাছে অতীতে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া কিছু কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে ‘ডিমান্ড অব জাস্টিস’ শীর্ষক একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, একই সময়ে ২৯ জনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে রাজস্ব খাতে ‘জুনিয়র কনসালট্যান্ট’ পদ থেকে সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের সময় বয়সসীমা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার মতো মৌলিক শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের অনেককে স্থায়ী নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, বিটিআরসির অভ্যন্তরীণ অডিট ও বিভিন্ন তদন্তে এসব নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এমনকি একটি টাস্কফোর্স গঠন করে তদন্ত পরিচালনা করা হয় এবং কথিত অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৫ সালে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রমাণিত অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিটিআরসির ছয়জন উপপরিচালকের পক্ষে শিহাব উদ্দিন খান অ্যান্ড কোং থেকে পাঠানো ওই নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে পরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) সভা আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্তদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, সুশাসনের পরিপন্থী এবং সংবিধানে প্রদত্ত সমান সুযোগের নীতির লঙ্ঘন হতে পারে। তাই আসন্ন ডিপিসিতে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বিবেচনা না করা এবং অতীতের অনিয়মের বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালতে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বিটিআরসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির ভাবমর্যাদা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে। বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সমাধান না হলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে খাতের শাসনব্যবস্থা ও নীতি বাস্তবায়নে পড়তে পারে।
ডিবিটেক/আইএইচ/এসএম