হাইটেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টার পরিচালনায় উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

গেজেটে পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ

গেজেটে পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ
৮ মার্চ, ২০২৬ ০০:০০  
৮ মার্চ, ২০২৬ ১৪:২৪  

দেশের হাইটেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার সমাধানে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। 

এ নিয়ে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হাইটেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোর কার্যক্রম আরও দক্ষভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ছয় সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে উপদেষ্টা জনাব রেহেনা আসিফ আসাদকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নর, অর্থ বিভাগের সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর চেয়ারম্যান। আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব।

অবশ্য সাবেক সচিব শীষ হায়দার চৌধুরিকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করার পর এখন পর্যন্ত এই পদটি শুন্য রয়েছে। অতিরিক্ত সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা সচিবের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর মাস তিনেক আগে বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর নির্বাচনের সামনে ইশতেহারে পেপ্যালকে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

সেই গুরুত্বকে বাস্তবায়নে বাংলাদেশ গেজেট–এর অতিরিক্ত সংখ্যায় ২ মার্চ প্রকাশিত হাইটেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টার পরিচালনায় গঠিত গঠিত কমিটির মূল দায়িত্ব বিষয়ে দেশের সব হাইটেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে কর্মরত ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তিবিদদের জন্য সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টিও কমিটি বিবেচনা করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা চালুর বিষয়টিও কমিটির আলোচ্যসূচিতে থাকবে। বিশেষ করে বাংলাদেশে পেপ্যাল-এর কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি কমিটি পর্যালোচনা করবে। প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের বিষয়েও সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে এই কমিটির।

এ ছাড়া প্রয়োজনে কমিটি অতিরিক্ত সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি সূত্র বলছে, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, ফ্রিল্যান্সিং ও সফটওয়্যার শিল্পের প্রসার ত্বরান্বিত করতে এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালু এবং প্রযুক্তি খাতে বৈদেশিক আয় বাড়ানোর উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের আইসিটি খাত আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে আমেরিকান বহুজাতিক কোম্পানি পেপ্যালকে বাংলাদেশে আনকে এক দশক ধরে প্রচেষ্টা চলছে। বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে  পেপ্যালের ৩৬০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। ব্যক্তিগত লেনদেনের ক্ষেত্রে চার্জ না থাকায় এটি ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।  পেপ্যাল সুবিধা (PayPal Benefits) চালু হলে দেশের ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা এবং ই-কমার্স খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে প্রযুক্তিবিদদের ধারণা। তাদেরে ভাষ্য, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছ থেকে পারিশ্রমিক দ্রুত ও সহজে গ্রহণ কারার ক্ষেত্রে পেপ্যাল অধিক বিশ্বস্ত। এছাড়াও  ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পেপ্যাল (PayPal for Freelancers) আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস ও সরাসরি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে পেমেন্ট নিতে সাহায্য করবে, যার ফলে তাদের কাজের সুযোগ ও আয় বাড়বে।

ডিবিটেক/ডিএইচই/ইকে