জমি কিনে রেখেছি, আমরাও করোনার টিকা তৈরি করতে পারব : প্রধানমন্ত্রী

১৫ নভেম্বর, ২০২১ ১৬:০২  
করোনার টিকা তৈরির সুযোগ দিলে আমরাও টিকা তৈরি করতে পারব বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদন করে অন্য দেশকে দেওয়ার সক্ষমতাও বাংলাদেশের আছে বলে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমাদের যে সাফল্য আমরা তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছি। জলবায়ু সম্মেলনে গিয়ে আমি এটাও বলে এসেছি, আমরা নিজেরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে চাই। ভ্যাকসিন তৈরিতে যে বাধা আছে, সেগুলো আপনাদের সরিয়ে দিতে হবে। এটা উন্মুক্ত করতে হবে। এটা জনগণের প্রাপ্য। এটা জনগণের সম্পদ হিসেবে দিতে হবে। যেন সারাবিশ্বের কোনো মানুষ এই ভ্যাকসিন থেকে দূরে না থাকতে পারে। আমাদের সুযোগ দিলে আমরাও ভ্যাকসিন উৎপাদন করবো। আমাদের সেই সক্ষমতা আছে। সেজন্য আমি জমিও কিনে রেখেছি। আমরা কিন্তু উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’ সোমবার (১৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের এক সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার প্রধান এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমি বাংলাদেশে আসার পর কী দেখেছি— বিজ্ঞান পড়েই না মানুষ, বিজ্ঞানের প্রতি কোনও আগ্রহ নেই, গবেষণা তো ছিলই না। কোনও বিশেষ বরাদ্দও ছিল না। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপও তুলে ধরেন তিনি আরো বলেন, ‘এখন আমরা পিছিয়ে নেই। আমি ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের জনগণকে। তারা বারবার আমায় ভোট দিয়েছেন। সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। এক দশকের ভেতরে বাংলাদেশের পরিবর্তন সারা বিশ্বে একটা মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশের কাউকে বাইরে গিয়ে কথা শুনতে হয় না। শেখ হাসিনা বলেন, আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ আমাদের কিছু ইয়াং সংসদ সদস্য, সবাই মিলেই কিন্তু ইয়াংবাংলা স্টার্টআপ প্রোগ্রাম নিয়েছে। এই প্রোগ্রামের জন্য আমরা বিশেষ বরাদ্দও রেখেছি। ছেলেমেয়েরা যদি কেউ উদ্যোগ নিতে চায় আমরা তাদের পাশে দাঁড়াবো। অনলাইনে কেনাবেচা, ই-কমার্স, টেন্ডার- এগুলো তো (ইতোমধ্যে) হয়েছে বাংলাদেশে। সামনে আরও সময় আছে, আরও হবে। এক দিনে তো হয় না, ধাপে ধাপে করতে হয়। গত বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) প্যারিসে প্রথমবারের মতো ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন দ্য ফিল্ড অব ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ পুরস্কার দেওয়া হয়। উগান্ডার ‘মোটিভ ক্রিয়েশন’ নামে একটি সংগঠন এই পুরস্কার পেয়েছে। প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার দেওয়া হবে প্রতি দুই বছরে একবার, যার আর্থিক মূল্য ৫০ হাজার ডলার। বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার প্রবর্তন করায় বক্তব্যকালে ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। উগান্ডার মোটিভ ক্রিয়েশনের মতো বাংলাদেশের যুব সমাজও এগিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উগান্ডা আজ এই পুরস্কার পেয়েছে। একদিন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশেরও কোনও না কোনও উদ্যোক্তা এই পুরস্কার পাবে বলে আমি আশা করি।’