১২ বছরের মেয়েটির চিকিৎসায় সহায়তা চান অসহায় মা
বিরল রোগে শাবানা, জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন
- মুখের রক্তনালীর বিরল টিউমারে আক্রান্ত ১২ বছরের শাবানা
- প্রায় ৮ সেন্টিমিটার টিউমারে জরুরি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ চিকিৎসকদের
- পরিবারের মাসিক আয় ৬ হাজার, চিকিৎসায় প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা
১২ বছরের ছোট্ট শাবানার এখন স্কুলে যাওয়ার বয়স। সহপাঠীদের সঙ্গে দুরন্ত শৈশবে মেতে থাকার কথা তার। কিন্তু বিরল ও জটিল এক রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছে সে। মুখের ডানপাশে জন্মগতভাবে তৈরি হওয়া রক্তনালীর একটি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সময়ের সঙ্গে বড় হয়ে এখন তার জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় রোগটির নাম ‘ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সফট টিস্যু লেশন/হেমাঙ্গিওমা’—রক্তনালীর ভাস্কুলার ম্যালফরমেশন বা টিউমার। চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, জন্মের পর থেকেই শাবানার ডান গালের ভেতরে নীলাভ রঙের একটি ছোট পিণ্ড বা অস্বাভাবিকতা ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটি অস্বাভাবিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে করা সিটি অ্যানজিওগ্রাম পরীক্ষায় দেখা গেছে, টিউমারটি প্রায় ৭ দশমিক ০ সেমি × ৮ দশমিক ১৩ সেমি × ৩ দশমিক ৩০ সেমি আয়তনের বড় পিণ্ডে পরিণত হয়েছে। এটি ডান গাল ও মাড়ির জিঞ্জিভোবাক্কাল মিউকোসা থেকে ডান ঠোঁট এবং মাথার খুলির গভীর অংশ ইনফ্রাটেম্পোরাল ফোসা পর্যন্ত বিস্তৃত।
পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, মুখের প্রধান রক্তনালী ফেসিয়াল আর্টারি টিউমারের ভেতরে প্রবেশ করেছে এবং সেখান থেকে টিউমারটি রক্ত সরবরাহ পাচ্ছে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পর্যবেক্ষণে মুখের বিকৃতি রোধ এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের রক্তক্ষরণের ঝুঁকি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের রোগীকল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী, অপারেশন চার্জ ও আনুষঙ্গিক ওষুধ-পথ্য বাবদ প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। পরবর্তী ফলোআপ ও পুনর্বাসনসহ চিকিৎসার মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
কিন্তু এই ব্যয় বহনের সামর্থ্য নেই শাবানার পরিবারের।
শাবানার বাবা শাহেদ মল্লিক পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। সম্প্রতি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় শয্যাশায়ী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি কর্মক্ষমতা হারানোর পর পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।
বর্তমানে শাবানার মা নাজমা আক্তার বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পারগেণ্ডারিয়া এলাকায় চার সদস্যের পরিবারটির মাসিক আয় মাত্র ৬ হাজার টাকা। এই সামান্য আয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্বামীর ওষুধের খরচ এবং পরিবারের খাবার জোগাড় করাই কঠিন। এর মধ্যে মেয়ের ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করা পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
অসহায় মা নাজমা আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “মেয়েটার মুখের ফোলা বাড়ছে, ডাক্তাররা দ্রুত অপারেশনের কথা বলছেন। কিন্তু আমরা তো ওষুধ কেনার টাকাই জোগাড় করতে পারি না। সমাজের হৃদয়বান মানুষেরা একটু দয়া না করলে আমার মেয়েটাকে হয়তো আর বাঁচানো যাবে না।”
শাবানার পরিবার জানিয়েছে, তাদের কোনো ব্যাংক বা বিকাশ অ্যাকাউন্ট নেই। মেয়ের চিকিৎসায় সহায়তা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা পরিবারের নিজস্ব নগদ নম্বরে অর্থ পাঠাতে পারবেন।
সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা
- ব্যক্তিগত নগদ (Nagad) নম্বর:
01984-297040 - রোগীর বর্তমান ঠিকানা: পারগেণ্ডারিয়া (কেরানীগঞ্জ পার্ক সংলগ্ন), দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।
শাবানার জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সমাজের সামর্থ্যবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার। সামান্য আর্থিক সহায়তাও এই শিশুটির চিকিৎসা শুরু এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
//ডিবিটেক/ নাফিসা আঞ্জিুম/এসএমই/এমআইএস//





