বাজারের চাহিদা মেটাতে নারীদের যুগোপযোগী ট্রেডে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের

জেলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নের কঠোর নির্দেশ

  • জেলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ আধুনিক ইকুইপমেন্ট ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করে সচল করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের তথ্য এমআইএসে সংরক্ষণের নির্দেশ 
  • বাজারভিত্তিক বাস্তবসম্মত ট্রেড প্রশিক্ষণ, ব্যবসা পরিচালনার প্রাথমিক মূলধন এবং পণ্য বিপণনে নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে সরকার
  • স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিন ক্যাটাগরিতে আট কোটি পনেরো লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ হস্তান্তর 

জেলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নের কঠোর নির্দেশ
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৪  

দেশের জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক ইকুইপমেন্ট ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গরূপে সচল করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারীদের কেবল সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশলগত দক্ষতায় স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

২ সেপ্টেম্বর, বুধবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের আওতায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিসমূহের মধ্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী যুগোপযোগী ট্রেড ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ের পারফরম্যান্স ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই সংশ্লিষ্ট সমিতি ও সংস্থাসমূহকে সরকারি সহায়তা বরাদ্দ করা হবে। এছাড়া প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে ডেটাভিত্তিক কাঠামোর আওতায় আনতে সকল প্রশিক্ষণার্থীর বিস্তারিত তথ্য এমআইএস (MIS)-এ যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ এবং পাহাড়ি-সমতল নির্বিশেষে নাগরিকদের সমান অধিকার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সহায়তা স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে যাবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণার্থীদের সফল প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে উৎপাদিত পণ্য দ্রুত ও সহজে বাজারজাতকরণের জন্য বিশেষায়িত বিপণন প্রশিক্ষণ, ব্যবসা শুরুর জন্য সিড মানি (প্রারম্ভিক মূলধন) এবং বহুমুখী প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী বিকাশমান ‘কেয়ার ইকোনমি’তে দেশের নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে জেলা পর্যায়ে আধুনিক কেয়ার গিভিং প্রশিক্ষণ চালুর কথা জানান তিনি। দ্রুত সেবা নিশ্চিতে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের শূন্য পদসমূহে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি নারী-শিশু নির্যাতন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সাধারণ অনুদান হিসেবে তিনটি ক্যাটাগরিতে ৩ হাজার ১৮০টি সমিতিকে মোট ৮ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া ঘূর্ণায়মান অনুদান হিসেবে ৪০টি জেলার ৭০টি সমিতিকে ৩৫ লাখ টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন অনুদান হিসেবে ২১টি জেলার ৬৯টি সমিতিকে ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক শায়লা শার্মিন জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এলিজা জামান। অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্‌বুবসহ মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দফতর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সমিতিগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/ আরএইচপিআর/এমআইএসটি//