নবীনদের ফুলেল বরণ, গবেষণায় জোর

যবিপ্রবিতে কেমিকৌশলে গবেষণা-ক্যারিয়ার ভাবনা

  • কেমিকৌশলের নবীনদের গবেষণা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান
  • আইটি, সফটওয়্যার ও দলগত দক্ষতা অর্জনে জোর দিয়েছেন শিক্ষকরা
  • নবীনবরণের পর গবেষণা-ক্যারিয়ার সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 

যবিপ্রবিতে কেমিকৌশলে গবেষণা-ক্যারিয়ার ভাবনা
৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:০৪  

গবেষণা, প্রযুক্তি ও আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতাকে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিকৌশল বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ এবং ‘ফোকাস অন রিসার্চ অ্যান্ড ক্যারিয়ার’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আইটি, সফটওয়্যার, যোগাযোগ ও দলগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে কেমিকৌশল বিভাগের উদ্যোগে ৫ অক্টোবর, সোমবার সকাল ১১টায় নবীনবরণ ও সেমিনারের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, যবিপ্রবির কেমিকৌশল বিভাগ মেধা ও গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে বারবার গৌরবান্বিত করেছে। জাতীয় পর্যায়ের ইনোভেশন ফেয়ারে এই বিভাগের একটি প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থাপন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এটি বিভাগটির শিক্ষা ও গবেষণার উচ্চমানের বহিঃপ্রকাশ।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা জনগণ ও রাষ্ট্রের করের অর্থে পড়াশোনা করছে। তাই এই ঋণ পরিশোধে রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ বজায় রাখতে হবে। শুধু একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি উন্নত যোগাযোগ দক্ষতা, আইটি ও সফটওয়্যার জ্ঞান এবং দলগত কাজের মতো আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা অর্জনও জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীরা নতুন ধরনের স্বাধীনতা পাবে। তবে সেই স্বাধীনতা যেন স্বেচ্ছাচারিতা বা অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি সময়ের অপচয় না করে শুরু থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দেন, যাতে চার বছর পর শিক্ষার্থীরা পরিবার ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে। জীবনে বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি আসবে এবং সেগুলো অতিক্রম করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাবা-মা ও শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের নিজেদের চেয়েও বড় হতে চান উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবীন শিক্ষার্থীরা একদিন বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশকে গর্বিত করবে।

কেমিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইমরান খান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছা. আফরোজা খাতুনসহ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মায়মুনা তাসনিম ও আদৃতা আশরাফি।

নবীনবরণ পর্ব শেষে দুপুর ২টায় শুরু হয় ‘ফোকাস অন রিসার্চ অ্যান্ড ক্যারিয়ার’ শীর্ষক সেমিনার। এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির কেমিকৌশল বিভাগের অ্যালামনাই ড. মো. রাফিউল হাসান, ড. সৈয়দ ইমদাদুল হোসেন সোহান ও তৌকির আহমেদ ইমরান।

সেমিনারে গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনের প্রস্তুতির পাশাপাশি কেমিকৌশল শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য ক্যারিয়ার পথ নিয়ে আলোচনা করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ পর্বে সন্ধ্যায় কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

//ডিবিটেক/এনএইচজে/এসএমপি/বিপিও//