স্পিকারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে ডিজিটাইজেশনের রূপরেখা পেশ
ই-পার্লামেন্ট ও প্রশিক্ষণে সংসদকে সহায়তায় আগ্রহী ইউএনডিপি
- ইউএনডিপি ই-পার্লামেন্ট ও নতুন এমপিদের টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে
- আইপিইউ নির্বাহী পরিষদে জহরত আদিব চৌধুরী নির্বাচিত হওয়ার তথ্য জানানো হয়
- স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের সক্রিয় সহায়তা চেয়েছেন
জাতীয় সংসদের নতুন সদস্যদের জন্য প্রযুক্তিভিত্তিক ওরিয়েন্টেশন কোর্স ও প্রশিক্ষণ আয়োজন, লিঙ্গসমতা নীতি বাস্তবায়ন এবং আধুনিক ই-পার্লামেন্ট (e-Parliament) চালুর ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও সার্বিক সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস।
স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও বিকশিত হয়েছে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইউএনডিপি কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সংসদ জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো সংক্রান্ত বিভিন্ন ওরিয়েন্টেশন কোর্স ও প্রশিক্ষণ পরিচালনায় সহযোগিতা দিতে ইউএনডিপি সবসময় প্রস্তুত।
তিনি আরও জানান, সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে লিঙ্গসমতা নীতি বাস্তবায়ন ও অটোমেটেড ই-পার্লামেন্ট চালুর ক্ষেত্রে ইউএনডিপি বিশেষভাবে আগ্রহী।
সাক্ষাতে স্পিকার জানান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ইউএনডিপি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের সক্রিয় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিভিন্ন ডিজিটাল ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে জাতীয় সংসদকে সম্পৃক্ত করে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ইউএনডিপি।
বিগত সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলের সমালোচনা করে স্পিকার জানান, ওই সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অর্থ পাচার, গুম ও খুনের রাজনীতি জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তদন্ত প্রতিবেদনে বিগত সরকারের শাসনামলের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে স্পিকার জানান, প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে জাতীয় অর্থনীতি ও স্থানীয় জনগণের ওপর চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইউএনডিপির আন্তর্জাতিক সহায়তা কামনা করেন তিনি।
সাক্ষাতে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক মানবাধিকার পরিস্থিতি, নারী সংসদ সদস্যদের জন্য প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক উন্নয়ন কর্মসূচি এবং ক্লিন এনার্জি ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় হয়। স্পিকার জানান, বর্তমান সংসদে বিরোধী দল সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। সংসদের প্রতিটি বিলের আলোচনায় বিরোধী দল নিজেদের মতামত তুলে ধরছে। নারী সংসদ সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, বর্তমান সংসদের নারী সদস্যরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
এ সময় তিনি জানান, ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৫৩তম অধিবেশনে পরবর্তী চার বছরের জন্য নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী।
বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়াসহ ইউএনডিপি ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/বিটিএনএস/এসএমপি/ওইএম//





