বাংলাদেশ আর্চ সামিটে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থপতিদের বৈশ্বিক স্বীকৃতিতে সরকারি সহায়তা প্রতিশ্রুতি

  • ক্যানবেরা অ্যাকর্ডের সাথে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্বমানের স্থাপত্য নকশার সুযোগ তৈরির তাগিদ
  • বছরে এক হাজার স্থপতির কর্মসংস্থান ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা সহজীকরণে নীতিগত সহায়তার আশ্বাস
  • স্থাপত্য শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়নে স্টুডিও ল্যাব সম্প্রসারণ ও অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি

স্থপতিদের বৈশ্বিক স্বীকৃতিতে সরকারি সহায়তা প্রতিশ্রুতি
৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:০৯  

আধুনিক স্থাপত্যকলা, ডিজিটাল নকশা প্রযুক্তি এবং টেকসই অবকাঠামো প্রকৌশলের বৈশ্বিক মানে দেশের তরুণ স্থপতিদের প্রস্তুত করতে সমন্বিত নীতিগত সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ৯ অক্টোবর, শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আর্চ সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে এ রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, স্থাপত্য শিক্ষা ও আধুনিক নকশা প্রকৌশলের পেশাকে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের তরুণ স্থপতিরা যেন তাদের সৃজনশীল মেধার স্বাক্ষর রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রযুক্তি ও নির্মাণশৈলীর সক্ষমতা তুলে ধরতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামোগত ও নীতিগত প্রণোদনা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে দেশের সামগ্রিক স্থাপত্য ও অবকাঠামোগত দৃশ্যপটে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তরুণ প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ তুলে ধরে মাহ্দী আমিন জানান, প্রতি বছর দেশে প্রায় এক হাজার নতুন স্থপতি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করছেন। তাদের স্থানীয় বাজারে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশে উচ্চতর মাস্টার্স ও পিএইচডি গবেষণার সুযোগ সহজ করতে সরকার কাজ করছে। দেশে বসেই আন্তর্জাতিক প্রকল্পের জটিল স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন ও বৈশ্বিক রিমোট কাজের ক্ষেত্র তৈরিতে বাংলাদেশি ডিগ্রিগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিতের ওপর জোর দেন তিনি। এ লক্ষ্যে বৈশ্বিক মূল্যায়ন কাঠামো ‘ক্যানবেরা অ্যাকর্ড’-এর সাথে সম্পৃক্ততা বাড়াতে আইএবি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে যৌথ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

স্থাপত্য শিক্ষার মানোন্নয়নে স্টুডিও আধুনিকায়ন, আধুনিক সিমুলেশন ল্যাব স্থাপন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত অনুকূলে রাখা এবং অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ ও বিশেষ বাজেট বরাদ্দে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়।

আইএবির সভাপতি প্রফেসর ড. শরীফ শামস ইমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আখতার হোসেন খান, দক্ষিণ আফ্রিকার স্থপতি কেভিন বিংহ্যাম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এম মাহবুবুর রহমান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফুয়াদ হাসান মল্লিক, স্থপতি মাহমুদুল আনোয়ার রিয়াদ এবং স্থপতি প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।
//ডিবিটেক/বিভিআর/এসএমপি/বিপিও//