এআই ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংয়ে জোর

ঢাবিতে শুরু হলো আন্তর্জাতিক কম্পিউটিং সম্মেলন

  • গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে সামাজিক প্রভাব ও তথ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহারের তাগিদ
  • স্বাস্থ্য ও কৃষির মতো বাস্তবমুখী সমস্যা সমাধানে আন্তঃবিষয়ক গবেষণায় গুরুত্বারোপ
  • বড় এআই মডেল প্রশিক্ষণে জিপিইউ-ভিত্তিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামোর দাবি

ঢাবিতে শুরু হলো আন্তর্জাতিক কম্পিউটিং সম্মেলন
৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১০  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কম্পিউটার ভিশন, সাইবার নিরাপত্তা ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংয়ের মতো অগ্রসর প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষকদের সমন্বয়ে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। আইইইই কম্পিউটার সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ০৯ অক্টোবর, শুক্রবার সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে 'আইইইই থার্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন কম্পিউটিং, অ্যাপ্লিকেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস (কমপাস ২০২৬)'-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। তিনি উল্লেখ করেন, গবেষণার মান কেবল প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন বা বাহ্যিক র‍্যাঙ্কিং দিয়ে মূল্যায়ন করা যুক্তিযুক্ত নয়; বরং গবেষণার প্রশ্নের গভীরতা, ফলাফলের পুনরুৎপাদনযোগ্যতা এবং মানবজীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করা সমভাবে জরুরি। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে গবেষণার নৈতিকতা, তথ্যের দায়িত্বশীল প্রয়োগ, গবেষণার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার ওপর জোর দেন এবং অনুষদগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, ল্যাব সুবিধা বিনিময় ও কম্পিউটিং সক্ষমতা সম্প্রসারণে প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির এবং আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমামুল হাসান ভূঁইয়া। অধ্যাপক ড. উপমা কবির বলেন, সমসাময়িক বিজ্ঞান গবেষণায় কম্পিউটিং, রোবোটিকস, এআই, আইওটি, জ্বালানি ও পদার্থবিজ্ঞান পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠছে। এসব অগ্রসর প্রযুক্তিকে স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবহন ও জলবায়ুর মতো প্রায়োগিক সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সম্মেলনের জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কাটিং-এজ গবেষণার উচ্চ চাহিদা মেটাতে দেশে জিপিইউ-ভিত্তিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং (এইচপিসি) অবকাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। তিনি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি ডেটাসেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাসের অধ্যাপক লতিফুর খান।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, কমপাসের এ তৃতীয় আসরে জমা পড়া ৬১৬টি গবেষণাপত্রের মধ্য থেকে কঠোর পর্যালোচনা শেষে ২১২টি গৃহীত হয়েছে। এতে ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং, বুদ্ধিমান ব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো শাখাগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। ১০ অক্টোবর, শনিবার সম্মেলনের শেষ দিনে মূল প্রবন্ধ, বিভিন্ন কারিগরি অধিবেশন ও প্লেনারি আলোচনার মধ্য দিয়ে বৈজ্ঞানিক এ আয়োজনের পর্দা নামবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।

//ডিবিটেক/ডিপিএও/বিভিটি/এসএমই//