প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের চীন সফর
প্রযুক্তি ও শিল্পায়নে চীনের অভিজ্ঞতা নেবে বাংলাদেশ
- দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর জোর
- বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধি
- উৎপাদনশীলতা ও তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব বাড়ানোর গুরুত্বারোপ
বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার শীর্ষ কেন্দ্র হিসেবে চীনের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর ও অবকাঠামোগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের পথ সুগম করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। চীনা দূতাবাস আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের চীন সফর উপলক্ষে ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটি দ্বিতীয় প্রতিনিধি দলের সফর। এ সফরকে কেবল আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশটির কর্মকর্তা, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও প্রকৌশল গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে চীনের যুগান্তকারী অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অভিজ্ঞতা অনুধাবনের তাগিদ দেন তিনি।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাই চীনের সংস্কৃতি, প্রতিষ্ঠান ও মানুষের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হতে হবে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা, অবকাঠামো নির্মাণ, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি, অটোমেশন এবং নীতিমালার সফল বাস্তবায়ন থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার রয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রক চীনের শিল্প রূপান্তরের কৌশল বাংলাদেশের জন্য বড় শিক্ষা হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল। সময়ের পরিক্রমায় সেই সম্পর্ক এখন সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনীতি ও প্রশাসনিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। অর্থনীতিতে বহুমুখিতা নিশ্চিত করা, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা এবং তরুণদের জন্য ভবিষ্যৎমুখী কর্মসংস্থান তৈরিতে চীনের প্রকৌশলগত অগ্রগতি অত্যন্ত সহায়ক হবে।
দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুততম সময়ে চীনের ডিজিটাল ‘ই-ভিসা’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেন। এর পাশাপাশি দুই দেশের প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক সালিশি আইনি সহায়তা, বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, স্মার্ট প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে এই প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কৌশলগত মেলবন্ধন দুই দেশের সাধারণ জনগণের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনবে। চীনা দূতাবাস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সফরকারী দলের সদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।
//ডিবিটেক/এএমপি/এসএমই/বিপিও//





